বগুড়ার শেরপুর-ধুনট সড়ক এখন ভয়ের পথে পরিণত হয়েছে। গত ১৮ দিনে পরপর পাঁচটি ছিনতাই ও চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। পুলিশি টহলের প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী।
সবশেষ ঘটনা ঘটে ৩০ আগস্ট শনিবার রাতে। শালফা বাজারে মো. উপেনের চা স্টলের বেড়া কেটে ভেতরে প্রবেশ করে নগদ ২ হাজার ১০০ টাকা চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা।
এর আগে শুক্রবার (২২ আগস্ট) বিকেলে, শেরপুর-ধুনট সড়কের শুবলি এলাকায় জমি দেখতে মোটরসাইকেল সড়কের পাশে রেখে যান ভুক্তভোগী সেলিম খা। সুযোগ বুঝে দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলটি চুরি করে নিয়ে যায়।
১৯ আগস্ট মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে হুসনাবাদ এলাকায় ঘটে ভয়াবহ ছিনতাই। নাসিম মীর তার স্ত্রীকে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। ছিনতাইকারীরা মোটরসাইকেলে এসে তার অটোরিকশা থামিয়ে ১৯ হাজার ৮০০ টাকা, একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও একটি বাটন ফোন লুট করে নেয়।
একই রাতে ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী গ্রামের মাসুদও ছিনতাইচেষ্টার শিকার হন। তবে সাহসিকতার সঙ্গে মোটরসাইকেল জোরে চালিয়ে তিনি প্রাণে রক্ষা পান।
এর আগে ১২ আগস্ট রাত ১টার দিকে, শালফা কলেজপাড়া এলাকায় বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রূপম ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। সেদিন দুর্বৃত্তরা তার কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা, একটি অপ্পো অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও একটি আইফোন ছিনিয়ে নেয়।
ভুক্তভোগী রাশেদুল ইসলাম রূপম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি যতদূর জানি এই সড়কে পুলিশ টহল থাকে। তাহলে এতগুলো ঘটনা পরপর ঘটলো অথচ পুলিশ কিছুই জানল না এটা মানা যায় না।”
স্থানীয়রা জানান, শেরপুর-ধুনট সড়কে ছিনতাই এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। রাত তো বটেই, দিনের বেলাতেও মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারছে না। তারা দ্রুত পুলিশি টহল জোরদার ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন বলেন, “সব ঘটনায় আমাদের কাছে অভিযোগ আসে না, তাই অনেক সময় জানতেও পারি না। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আমাদের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে টহল জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চিহ্নিত ছিনতাইকারীদের ধরতে বিশেষ অভিযান চলছে। খুব শিগগিরই দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। এলাকাবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে পুলিশের সহযোগিতা করার আহ্বান জানাচ্ছি।”