অন্বেষণ ডেস্ক : বগুড়ায় তারেক রহমানের জনসভা কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল থেকেই পুরো শহরে এক ভিন্নরকম রাজনৈতিক আমেজ বিরাজ করেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দীর্ঘ দিন পর নিজ পিতৃভূমিতে আসছেন, মূলত এই সংবাদেই আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ দুপুরের আগেই জনসমুদ্রে পরিণত হয়। রাতে মূল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিকেল গড়ানোর আগেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধানের শীষ প্রতীক হাতে হাজারো নেতাকর্মী দুপুরের আগেই সমাবেশস্থলে এসে অবস্থান নেন। অতিরিক্ত ভিড় এবং জটলা এড়াতে অনেকেই আগেভাগে মাঠে প্রবেশ নিশ্চিত করেন। এসময় একাধিক ব্যক্তিকে শরীরজুড়ে ধানের শীষের প্রতীকে আবৃত হয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায়, যা উপস্থিত সবার নজর কাড়ে।
সমাবেশস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় তাকালে বিশেষ ভাবে চোখে পড়ে বিশাল আকারের সব ব্যানার ও ফেস্টুন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছবির সঙ্গে তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত এসব ব্যানার বিভিন্ন বহুতল ভবন থেকে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। মাঠের বাইরের অফিস ও বাণিজ্যিক ভবনগুলোও বড় বড় ব্যানারে ঢেকে যায়।
বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশের কার্যক্রম শুরুর আগেই আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠের ভেতরের সব জায়গা পূর্ণ হয়ে যায়। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি সত্ত্বেও মাঠের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থা ছিল প্রশংসনীয়। নেতাকর্মীরা দীর্ঘক্ষণ ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার পর রাতে তাদের প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখার সুযোগ পান।
একপর্যায়ে মাঠের ভেতরে তিল ধারণের ঠাঁই না থাকায় সাধারণ মানুষ মাঠের বাইরে রাস্তায় অবস্থান নিতে শুরু করেন। ফলে শহরের আব্দুল জব্বার সড়ক ও রোমেনা আফাজ সড়কে মানুষের ঢল নামে। একই চিত্র দেখা যায় শেরপুর রোডেও, যেখানে হাজারো মানুষ দাঁড়িয়ে সমাবেশের প্রতি সমর্থন জানান।
মূল প্যান্ডেলে প্রবেশ করতে না পেরে শহরের জিরো পয়েন্ট সাতমাথা এলাকাতেও ভিড় জমান অসংখ্য মানুষ। সেখানে দাঁড়িয়েই মাইকে ভেসে আসা তারেক রহমানের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন তারা। মূলত এদিন শহরের সব পথ গিয়ে মিশেছিল আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে, যা বগুড়াকে এক বিশাল জনসভার শহরে পরিণত করে।


