অন্বেষণ ডেস্ক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি হিসেবে পরিচিত ছাত্রনেতা সাদিক কায়েম বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অতীতে মজলুম ছিলেন। তবে বর্তমানে তার দলের নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডে যেন তিনি জালিম হয়ে না ওঠেন, সেদিকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গাজীপুরে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এই বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে। মূলত ছাত্রদলের বিরুদ্ধে নারী হত্যার অভিযোগ এবং সারা দেশে অব্যাহত নারী নিপীড়নের প্রতিবাদেই এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাদিক কায়েম কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
তিনি বলেন, বিএনপির সন্ত্রাসীরা যদি আর কোনো মা-বোনের ওপর হামলা চালানোর দুঃসাহস দেখায়, তবে তা আর মেনে নেওয়া হবে না। দেশের ১৮ কোটি জনতাকে সঙ্গে নিয়ে এর বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি দলের নেতাকর্মীরা যেভাবে লাগামহীন হয়ে পড়েছে, তা নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সাদিক কায়েম অভিযোগ করে বলেন, ওই বিশেষ দলটি বাংলাদেশের প্রকৃত গণতন্ত্র চায় না। তারা গণতন্ত্রের নামে দেশে মাফিয়াতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তারিখের আগেই তারা মানসিকভাবে পরাজিত হয়ে গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশে যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে, একটি দল তা নষ্ট করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
তারা চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও মামলাতন্ত্র কায়েম করে ভয়ের সংস্কৃতি চালু করতে চায়। ভবিষ্যতে কোনো নারীর ওপর হামলা হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়ে দেন। একই সঙ্গে দেশে চলমান সহিংসতা বন্ধে নির্বাচন কমিশন কেন নীরব ভূমিকা পালন করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এই ছাত্রনেতা।
সমাবেশে শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যাকাণ্ডে জড়িত বিএনপি কর্মীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং গাজীপুরে নারী হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানানো হয়। কর্মসূচিতে জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, যারা দীর্ঘ দিন দেশ ছেড়ে পালিয়ে ছিলেন, তারা এখন ফিরে এসে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হয়েছেন। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
শিবির নেতারা দাবি করেন, ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ধারাবাহিক পরাজয়ের ফলে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে দেশের প্রায় ছয় কোটি নারী ভোটার দলটিকে বয়কট করেছে। জনরোষ থেকে বাঁচতে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।


