অন্বেষণ ডেস্ক : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে ১৬ হাজার বিএনসিসি নিয়োগে আপত্তি জানিয়েছে বিএনপি। রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে দলটির প্রতিনিধি দল এই দাবি উত্থাপন করে। তাদের মতে, ছাত্রদের এই জটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীরা বিতর্কের মুখে পড়তে পারে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে নজরুল ইসলাম খান উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশন বিএনসিসি ক্যাডেটদের প্রথমবারের মতো ভোটের মাঠে নামানোর পরিকল্পনা করছে। তবে দলের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অল্পবয়সী শিক্ষার্থীদের নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর কাজে ব্যবহার করা অনুচিত। বিষয়টি নিয়ে কমিশন পুনরায় বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আজ যদি বিএনসিসি সদস্যদের যুক্ত করা হয়, তবে ভবিষ্যতে স্কাউট বা গার্লস গাইডদেরও একই কাজে ব্যবহারের দাবি উঠতে পারে। তাই আইনি কাঠামোতে যাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, কেবল তাদেরই ভোটের মাঠে দায়িত্ব দেওয়া শ্রেয়। কমিশনের পক্ষ থেকেও এই যুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
বৈঠকে বিপুল সংখ্যক পর্যবেক্ষক নিয়োগের বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি। নজরুল ইসলাম খান জানান, দেশি ৮১টি সংস্থার অধীনে প্রায় ৫৫ হাজার পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানের নাম ও কার্যক্রম সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা নেই। একসঙ্গে এত অধিক সংখ্যক পর্যবেক্ষক নির্বাচনি কেন্দ্রে উপস্থিত থাকলে ভোটগ্রহণের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হতে পারে বলে কমিশনকে সতর্ক করা হয়েছে।
এছাড়া ঢাকা মহানগরসহ বেশ কিছু এলাকায় অস্বাভাবিক ভোটার স্থানান্তরের অভিযোগও তুলেছে বিএনপি। দলটির দাবি, গত দেড় বছরে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় দুই থেকে তিন হাজার নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে, যা সন্দেহজনক। যদিও কমিশন দাবি করেছে এই সংখ্যা নগণ্য, তবে বিএনপির প্রতিনিধি দল এই ব্যাখ্যায় সন্তোষ প্রকাশ করতে পারেনি। ভুয়া ভোটার বা অবৈধ মাইগ্রেশন রোধে কমিশনকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নির্বাচনি প্রচারণায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং ‘শান্তি কমিটি’ গঠনের গুঞ্জন নিয়েও আলোচনা হয়। বিএনপি নেতারা জানান, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ধর্মীয় আবেগ ব্যবহার করা হচ্ছে, অথচ কমিশন নীরব। এছাড়া নির্বাচনের আগে বিভিন্ন এলাকায় শান্তি কমিটি গঠনের যে কথা শোনা যাচ্ছে, তা নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে দলটি। কমিশন অবশ্য জানিয়েছে, এমন কোনো কমিটির বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেয়নি।
একই দিনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নারী শাখার প্রতিনিধিরা। সংগঠনের নারী বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি অভিযোগ করে যে, ভোটের মাঠে নারীদের বাধা দেওয়া হচ্ছে। নারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা কমিশনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো ষড়যন্ত্র যাতে সফল না হয়, সে বিষয়েও তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


