দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে আবারও বড় ধরনের সমন্বয় এসেছে। সবশেষ দুই দফা মূল্য কমানোর ফলে ভরিতে মোট ৮ হাজার ৫১৫ টাকা কমেছে স্বর্ণের দাম। সাম্প্রতিক সময়ে দাম বাড়া–কমার ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ পাঁচ দফা সমন্বয়ের মধ্যে চারবারই কমানো হলো এই মূল্যবান ধাতুর দাম।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে টানা দ্বিতীয় দফায় স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দেয়। এ দফায় প্রতি ভরিতে দাম কমানো হয়েছে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা, যা কার্যকর হয়েছে আজ সকাল ১০টা ৪৫ মিনিট থেকে।
বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের দাম কমে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে নতুন করে স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৫১ হাজার ১৮৪ টাকায়। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ভরিপ্রতি ২ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫৪ টাকা। এছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫ হাজার ৫২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ভরিপ্রতি ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকায়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যুক্ত হবে। তবে গহনার নকশা ও মান অনুযায়ী মজুরির তারতম্য হতে পারে।
এর আগে, গত ১ ফেব্রুয়ারি রাতে সর্বশেষ দফায় স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ১ হাজার ৯২৫ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৫৭ হাজার ৭৭৪ টাকা। ওই সিদ্ধান্ত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হয়।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪ দফায় দাম বেড়েছে, আর কমানো হয়েছে ৭ দফা। অপরদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল—যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয় এবং ২৯ বার কমানো হয়েছিল।
স্বর্ণের দাম কমলেও রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ৩১ জানুয়ারি সকালে নির্ধারিত দাম অনুযায়ী বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৭ হাজার ২৯০ টাকায়। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৬ হাজার ৯৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা বেচাকেনা হচ্ছে ভরিপ্রতি ৪ হাজার ৪৩২ টাকায়।
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত রুপার দাম ১৪ দফা সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৯ দফায় দাম বেড়েছে এবং ৫ দফায় কমানো হয়েছে। আর ২০২৫ সালে রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল মোট ১৩ বার—যার মধ্যে ১০ বার বেড়েছিল, কমেছিল ৩ বার।


