জামায়াত নেতাদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, “কয়েকদিন পর হয়তো আপনারা বলবেন, গোলাম আজমই ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক।” তার অভিযোগ, জামায়াত নেতারা রাজনৈতিক স্বার্থে মিথ্যা বলতে পিছপা হন না।
মঙ্গলবার সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী।
তিনি বলেন, ইসলামের নামে ব্যবসা করা ও মুনাফেকিই জামায়াতের চরিত্র। ইসলাম এই মুনাফেকিকে সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভীর বক্তব্যের পটভূমিতে সোমবার চট্টগ্রামে জামায়াত আমিরের একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ উঠে আসে। ওই সমাবেশে জামায়াত আমির বলেন, একাত্তরে এলডিপি চেয়ারম্যান অলি আহমদ ‘উই রিভল্ট’ ঘোষণা করেছিলেন।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক ইতিহাস টেনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৯৮৬ সালে এরশাদের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে শেখ হাসিনা ও জামায়াত, উভয় পক্ষই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত বদল করেছিল। তবে বেগম খালেদা জিয়া সেই নির্বাচনে অংশ নেননি। নয় বছর ধরে তিনি নির্যাতন, নিপীড়ন, গ্রেপ্তার ও গৃহবন্দিত্ব সহ্য করেছেন, তবু নিজের অবস্থান থেকে সরে যাননি। এ কারণেই জনগণ বারবার তাকে সমর্থন দিয়েছে বলে দাবি করেন রিজভী।
স্বাধীনতার ঘোষক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতের আমির রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকৃত স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান। মেজর হিসেবে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার দিশা দেখিয়েছিলেন। সেই সময় যারা তার সঙ্গে সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন, তারাও নিজেদের লেখায় সম্মানের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করেছেন বলে জানান রিজভী।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক স্বার্থে এখন জামায়াতের আমির অলি আহমদকে স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন। অথচ অলি আহমদ নিজে কখনো এমন দাবি করেননি। তিনি সবসময় বলেছেন, তিনি জিয়াউর রহমানের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
জামায়াতকে উদ্দেশ করে রিজভী বলেন, স্বাধীনতার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কী, সে প্রশ্ন জনগণের সামনে স্পষ্ট। মুক্তিযুদ্ধের সময় হানাদার বাহিনীর নির্যাতনের বিরুদ্ধে তারা দাঁড়ায়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহিন, নির্বাহী কমিটির সদস্য তারিকুল আলম তেনজিং, মাইনুল ইসলামসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


