নিজস্ব প্রতিবেদক : বগুড়ার শেরপুরে বিএনপির নির্বাচনী অফিসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারী) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের কালসীমাটি গ্রামে স্থাপিত বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এই নাশকতার ঘটনা ঘটে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তৈরি করা ওই অফিসে আগুনের বিষয়টি রবিবার সকালে স্থানীয়দের নজরে আসে।
খবর পেয়ে রবিবার সকালেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শেরপুর-ধুনট সার্কেল) সজীব শাহরীন এবং শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহীম আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ সেখান থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আগুনে অফিসের আসবাবপত্র ও প্রচারণাসামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে টেবিলের ওপর বিছানো কাপড় এবং বিএনপির মনোনীত প্রার্থী গোলাম মো. সিরাজের নাম সম্বলিত একটি ব্যানার পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, রাতের আঁধারে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা এই অগ্নিসংযোগ করেছে।
গাড়িদহ ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাহফুজার রহমান এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করে রাত দুইটার দিকে তিনি বাড়ি ফেরেন। সকালে তিনি অগ্নিসংযোগের খবর পান। এটি সাধারণ কোনো দুর্ঘটনা নয় বলে তিনি দাবি করেন।
মাহফুজার রহমান অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে জামায়াতে ইসলামীর লোকজন পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই বিরোধ চলে আসছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
একই সুরে কথা বলেছেন গাড়িদহ ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক মেহেদী হাসান শিপলু। তিনি উল্লেখ করেন, ওই এলাকাটি জামায়াত অধ্যুষিত হিসেবে পরিচিত। শনিবার সন্ধ্যায় সেখানে বিএনপির প্রার্থী গোলাম মো. সিরাজের বিশাল পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
শিপলুর মতে, পথসভায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি দেখে প্রতিপক্ষ ঈর্ষান্বিত হয়েছে। ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই তারা রাতের আঁধারে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তবে বিএনপির আনীত এসব অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন স্থানীয় জামায়াতের আমীর জাহাঙ্গীর আলম। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না এবং এই ঘটনার সাথে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
উল্টো বিএনপির ওপর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এই কেন্দ্রে জামায়াতের জনপ্রিয়তা বেশি এবং বিজয় সুনিশ্চিত। নিজেদের পরাজয় আঁচ করতে পেরে বিএনপি নিজেরাই আগুন লাগিয়ে এখন জামায়াতকে দোষারোপ করার নাটক সাজাচ্ছে।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহীম আলী জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পোড়া আলামত জব্দ করেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


