নিজস্ব প্রতিবেদক : বগুড়ার শেরপুরে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে তিনজন যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা কলেজ রোড এলাকায় যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ডিভাইডারে ধাক্কা দিলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঘটা এই দুর্ঘটনায় মহাসড়কের ওই অংশে কিছুক্ষণের জন্য যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ মানুষের সহায়তায় তারা তাৎক্ষণিক উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।
ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাইক্রোবাসটি দ্রুতগতিতে ছোনকা কলেজ রোড এলাকা অতিক্রম করার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর সজোরে সড়কের মাঝখানে থাকা কংক্রিটের ডিভাইডারে ধাক্কা দেয়। ফলে ঘটনাস্থলেই অজ্ঞাতনামা একজন পুরুষ যাত্রীর মৃত্যু হয়।
পরবর্তীতে গুরুতর আহত চারজনকে উদ্ধার করে দ্রুত শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
এদিকে, বাকি আহতদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করার পরামর্শ দেন।
ওই হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেন জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। তাতে এই দুর্ঘটনায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় তিনজন। আহত বাকিরা বর্তমানে সেখানেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে শেরপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. বখতিয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই তাদের ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং বাকিদের মুমূর্ষু অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
অন্যদিকে, শেরপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মর্তুজা নূর বলেন, পুলিশ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলেই মহাসড়কে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত ও আহতদের বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
তবে পুলিশ তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে এবং পরিবারের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। দুর্ঘটনা কবলিত মাইক্রোবাসটি ইতিমধ্যে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক উত্তরবঙ্গের অন্যতম ব্যস্ত একটি রুট। অতিরিক্ত গতি ও চালকদের অসতর্কতার কারণে মাঝে মাঝেই এই মহাসড়কে এমন দুঃখজনক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে থাকে।


