২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারির সামরিক অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পর অবশেষে মিন অং হ্লাইং আনুষ্ঠানিকভাবে মিয়ানমারর প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে দেওয়া তার প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় এই পরিবর্তন এলেও, পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে দেশটির ভেতরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে সেনাবাহিনীর প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন মিন অং হ্লাইং। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন তিনি।
তবে নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠেছে। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী পার্লামেন্টের ২৫ শতাংশ আসন সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত থাকে। এর পাশাপাশি বাকি আসনের বড় অংশে জয় পেয়েছে সামরিক সমর্থক দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (USDP)।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রেক্ষাপটে নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক বলা কঠিন। অনেকেই পুরো প্রক্রিয়াকে পরিকল্পিত ক্ষমতা হস্তান্তর বা ‘অভিষেক অনুষ্ঠান’ হিসেবে দেখছেন।
ক্ষমতার ভারসাম্য ধরে রাখতে নিজের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত জেনারেল ইয়ে উইন ও-কে নতুন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন মিন অং হ্লাইং।
একই সঙ্গে একটি নতুন ‘পরামর্শক কাউন্সিল’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন মিন অং হ্লাইং। এই কাউন্সিলের মাধ্যমে তিনি বেসামরিক প্রশাসন ও সামরিক বাহিনী, দুই ক্ষেত্রেই নীতিনির্ধারণে প্রভাব বজায় রাখতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।


