মর্তুজা শাহাদত সাধন, নওগাঁ প্রতিনিধি : : নওগাঁর পোরশায় সড়কে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের মূল হোতাসহ চার সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
আটকৃতরা হলেন, সাপাহার উপজেলার খোট্টাপাড়া গ্রামের আবু তাহের (৫৬) ও তার ছেলে কামাল হোসেন (২৩), নওগাঁ সদর উপজেলার দোগাছী দক্ষিণপাড়া গ্রামের গোলাম মোস্তফা (৫৫) এবং মহাদেবপুর উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের মোস্তাক আহমেদ (৪৬)।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পোরশা উপজেলার সারাইগাছী-খাট্টাপাড়া ফকিরের মোড় এলাকার একটি সেতুর ওপর এই সুপরিকল্পিত ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাত দলটি অত্যন্ত সুকৌশলে সড়কের আড়াআড়ি রশি টেনে ছয়জন আরোহীসহ দুটি মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করে।
রাতের অন্ধকারে আকস্মিক বাধায় মোটরসাইকেল আরোহীরা তৎক্ষণাৎ থেমে যেতে বাধ্য হন। এরপর ডাকাতরা দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা লুট করে নেয়। একইসঙ্গে তাদের কাছে থাকা একটি স্মার্টফোন, তিনটি বাটন মোবাইল এবং ব্যবহৃত দুটি ১২৫ সিসির ডিসকভার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয় চক্রটি।
ভয়াবহ এই ডাকাতি শেষে অপরাধীরা ভুক্তভোগীদের পাশের একটি নির্জন আম বাগানে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায়। সেখানে তাদের হাত-পা শক্ত করে বেঁধে রেখে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। পরদিন ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে পোরশা থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।
মামলা দায়েরের পরপরই জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) দ্রুত তদন্তে নামে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিশ্লেষণ কাজে লাগিয়ে মাত্র ১৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয় পুলিশের এই চৌকস দলটি।
অন্যদিকে, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নওগাঁ সদর ও মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের একাধিক দল সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে। বৃহস্পতিবার রাতের টানা এই অভিযানে মূল চক্রের ওই চার সদস্যকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয় বলে পুলিশ সুপার নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে মাদক ও দ্রুত বিচার আইনে দুটি এবং আবু তাহেরের বিরুদ্ধে চুরি ও ডাকাতিসহ অন্তত পাঁচটি মামলা আদালতে চলমান।
এছাড়া অপর আসামি কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে দুটি এবং মোস্তাক আহমেদের বিরুদ্ধে চুরি ও ডাকাতিসহ আটটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, এই দুর্ধর্ষ ডাকাত চক্রের পলাতক অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে তাদের বহুমুখী অভিযান বর্তমানে অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে গ্রেফতারকৃত চার আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


