বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একাত্তরের চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল—তা আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। তিনিই একমাত্র পূর্ণ সাক্ষী, অন্যরা আংশিক সাক্ষী।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল-২০২৬’ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির।
আলোচনায় শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ–এর সময়কার ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মত ও ব্যাখ্যা রয়েছে। তবে সেই সময়ের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে আল্লাহই পরিপূর্ণভাবে জানেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংসদে তিনি বিদ্যমান আইনে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ সংজ্ঞা থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর নাম বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান। বর্তমান আইনে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস এবং তৎকালীন মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য শক্তির বিরুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণকারীদের বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
শফিকুর রহমান বলেন, মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম—এই দলগুলোর নাম সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত থাকায় রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা চাই বাংলাদেশে রাজনীতি সুস্থ ধারায় চলুক, নতুন কোনো বিভক্তি সৃষ্টি না হোক।”
মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, যারা দেশের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন, জাতি তাদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে। বক্তব্যে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে অতীত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কথাও উল্লেখ করেন।
এদিকে, সংসদের স্পিকার জানান, বিলটি নিয়ে এনসিপি লিখিতভাবে সংসদকে মতামত দিয়েছে এবং তারা এ বিষয়ে কোনো আপত্তি জানায়নি।


