বগুড়ার শিবগঞ্জে একটি বসতবাড়িতে পরিবারের সদস্যদের গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতির পর পালানোর সময় গ্রামবাসীর গণপিটুনিতে সেলিম ফকির (৪২) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৮ মে) ভোর রাতে উপজেলার মাঝিহট্ট ইউনিয়নের ছাতুয়া মাতালপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত সেলিম ফকির কাহালু উপজেলার কালাই ইউনিয়নের পিলকুঞ্জ এলাকার সিদ্দিক ফকিরের
ছেলে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে তিন সদস্যের একটি ডাকাত দল ছাতুয়া মাতালপাড়া গ্রামের শ্রী গোপাল চন্দ্র সাহার বাড়িতে হানা দেয়। তারা ঘরের আলমারি ভেঙে নগদ প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ও সাড়ে আট ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে।
ভুক্তভোগী পূর্ণিমা সাহা সে সময়ের ভয়াবহতা বর্ণনা করে বলেন, “মুখোশধারী ডাকাতরা ঘরে
ঢুকে আমার এবং আমার ছয় বছরের শিশুর গলায় অস্ত্র ঠেকিয়ে রাখে। চিৎকার করলে ছেলেকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তারা আমার কানের দুল ও গলার চেইন ছিনিয়ে নেয়।”
লুটপাট শেষে ডাকাত দল পালানোর চেষ্টা করলে বাড়ির লোকজনের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। এ সময় দুইজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও গ্রামবাসী সেলিম ফকিরকে ধরে ফেলেন। উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলেই তার
মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী অতুল সাহা জানান, চিৎকার শুনে এসে দেখেন বাড়ির গেট বন্ধ। পরে ছাদ দিয়ে ভেতরে ঢুকে তারা একজনকে ধরে ফেলেন।
খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক)
হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
শিবগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম জানান, এটি একটি পরিকল্পিত
ডাকাতির ঘটনা। ডাকাতরা অস্ত্র দেখিয়ে মালামাল লুট করে পালানোর সময় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। জড়িত অন্য ডাকাতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখ্য, একই পরিবারে কয়েকদিন আগেও একটি চুরির ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমান ডাকাতির সাথে ওই ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।


