অন্বেষণ ডেস্ক : সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির শুক্রবার (৮ মে) রাতে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে শাপলা চত্বরের ট্র্যাজেডি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। এই সময় তিনি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক সাংবাদিকের তীব্র সমালোচনা করে তাকে দেশদ্রোহী আখ্যা দেন।
ঘটনার রাতের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির বলেন, শাপলা চত্বরে অবস্থানরতদের জন্য তিনি সেদিন ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি পানির ট্রাক পাঠিয়েছিলেন। তবে সন্ধ্যার পর সেখানে একটি মৃতদেহ দেখার পর পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ মনে হয়েছিল যে তিনি আর সেখানে অবস্থান করতে পারেননি।
বিবিসির একজন সাংবাদিক সম্প্রতি দাবি করেন যে, শাপলা চত্বরের অভিযানে কোনো মানুষের মৃত্যু হয়নি। এই মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে শাহরিয়ার কবির তাকে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর দালাল বলে অভিযুক্ত করেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে ওই সাংবাদিকের জন্মগত পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, শাপলা চত্বরে নিহতের ঘটনা অস্বীকার করার মতো দুঃসাহস কেবল একজন বেইমানই দেখাতে পারে। ফলে বাংলাদেশের কোনো গণমাধ্যমের উচিত নয় এ ধরনের মিথ্যাচারকারী সাংবাদিককে বিন্দুমাত্র কাভারেজ দেওয়া বা তার সংবাদ প্রচার করা।
ক্ষুব্ধ এই আইনজীবী বলেন, ওই ব্যক্তি মীরজাফরের চেয়েও জঘন্য। তিনি প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে জানান, সেদিন রাস্তার ওপর রক্তের ছোপ ছোপ দাগ পড়ে ছিল। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফায়ার সার্ভিসকে ডেকে এনে পানি দিয়ে সেই রক্তের দাগগুলো ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে ফেলে।
নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, যারা সেদিন মারা গিয়েছিল তাদের মধ্যে অনেকেই ছিল ছোট ছোট অনাথ শিশু। কওমি মাদরাসার এই নিরীহ ছাত্রদেরকে জামায়াত-শিবিরের কর্মী হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ এই পরিচয় সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তিনি আরও যুক্ত করেন, এই সন্তানগুলো আমাদেরই সমাজের কারো না কারো সন্তান। এতিম শিশুরাই মূলত কওমি মাদরাসায় লেখাপড়া করে এবং বয়সের কারণে তাদের হয়তো জাতীয় পরিচয়পত্র ছিল না। শত শত এতিম শিশুকে হত্যা করে কোথায় গুম বা ডাম্পিং করা হয়েছে, তার প্রমাণও এখন সামনে আসছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিবিসির বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শাহরিয়ার কবির বলেন, এটি মূলত মিথ্যাচার ছড়ানোর একটি বড় হাতিয়ার। তিনি অভিযোগ করেন, ইরাক ধ্বংসের পেছনেও এই সংবাদমাধ্যমটির নেতিবাচক ভূমিকা ছিল। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মুসলমানদের বিরুদ্ধে তারা ধারাবাহিকভাবে প্রোপাগান্ডা চালিয়ে আসছে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি ওই সাংবাদিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। শাপলা চত্বরে শত শত মৃত্যুর ঘটনাকে যে ব্যক্তি সম্পূর্ণ অস্বীকার করতে পারে, তার বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই বলে তিনি মনে করেন। একইসঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও ফাঁসি দাবি করেন।


