নিখোঁজের ৩ দিন পর খালের পানিতে মিলল শিশুর বস্তাবন্দী মরদেহ

ভোলার বোরহানউদ্দিনে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর মো. ইসমাইল (৭) নামের এক শিশুর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিমপাড়া-সংলগ্ন একটি খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ইসমাইল ওই এলাকার আকবর হোসেনের ছেলে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২২ বছর বয়সী এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইসমাইল নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন এবং এলাকায় মাইকিং করেন। স্থানীয়দের পরামর্শে পুকুরেও তল্লাশি চালানো হয়। সন্ধান না পেয়ে ওই দিনই বোরহানউদ্দিন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার।

আজ সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা খালে একটি বস্তা ভাসতে দেখে কাছে যান। বস্তার ভেতরে শিশুর মরদেহ দেখতে পেয়ে তাঁরা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত শিশুর বাবা আকবর হোসেন বলেন, প্রথমে তাঁরা ভেবেছিলেন ছেলে হয়তো কোথাও খেলতে গেছে। কিন্তু অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান মেলেনি। আজ সকালে খালে বস্তা ভাসার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে ছেলের মরদেহ দেখতে পান।
ইসমাইলের চাচা শাহিনের অভিযোগ, আটক তরুণের বিরুদ্ধে আগে থেকেই চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় আগে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় সে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এদিকে শিশুটির চাচি নুরুন নাহার জানান, কিছুদিন আগে একটি মুঠোফোন কেনা নিয়ে ইসমাইলের বাবা আকবরের সঙ্গে আটক ওই তরুণের বিরোধ হয়েছিল। সে সময় ওই তরুণ হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘তোকে আমি এমন করব, সারা জীবন কাঁদবি।’ তবে পরিবারের এসব অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফউদ্দিন জানান, সন্দেহভাজন হিসেবে এক তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে


