ঈদের আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না রবিউলের

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের দক্ষিণ মির্জাগঞ্জ গ্রামের ছোট্ট একটি টিনের ঘরে এখন শুধু কান্নার শব্দ। যে ছেলেটি ঈদে নতুন জামাকাপড় নিয়ে বাড়ি ফেরার কথা ছিল, সে ফিরছে নিথর দেহ হয়ে। সংসারের হাল ধরতে এক বছর আগে ঢাকায় পাড়ি জমানো রবিউল ইসলামের (২২) ঈদযাত্রা থেমে গেল রাজধানীর ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায়।
বুধবার (২৭ মে) সকালে রাজধানীর নর্দার নতুন বাজার এলাকায় দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত হন রবিউল। দুর্ঘটনার খবর পৌঁছানোর পর থেকেই শোকে ভেঙে পড়েছে তার পরিবার।
রবিউল ছিলেন পরিবারের সবচেয়ে ছোট সন্তান। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তাকেই ঘিরে ছিল বাবা-মায়ের সবচেয়ে বেশি আশা। বাবা মো. মজিবর সিকদার আগে রিকশা চালানোসহ বিভিন্ন দিনমজুরের কাজ করতেন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। মা শাহিনুর বেগম গৃহিণী। বড় ভাই রেজাউল সিকদার গভীর নলকূপ বসানোর কাজ করেন। বড় বোনের বিয়ে হয়েছে আগেই।

অভাবের সংসারে থেকেও থেমে থাকেননি রবিউল। ২০২৪ সালে মির্জাগঞ্জ ইউনিয়ন দরগাহ শরীফ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। এরপর বাবার অসুস্থতা আর সংসারের চাপ দেখে পড়াশোনা আর এগিয়ে নিতে পারেননি। পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে চলে যান ঢাকায়। উত্তরার একটি চায়নিজ রেস্তোরাঁয় চাকরি নিয়ে যা আয় করতেন, তা দিয়েই চলত সংসার আর বাবার চিকিৎসা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ঈদুল আজহা সামনে রেখে কয়েকদিন ধরেই বাড়ি ফেরার কথা বলছিলেন রবিউল। সবার জন্য নতুন কাপড়ও কিনেছিলেন। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বাবাকে ফোন করে জানান, তিনি ছুটি পেয়েছেন। তখনই রওনা দিতে চাইলে বাবা সকালে আসতে বলেন।
সেই কথাই এখন বারবার মনে পড়ছে বাবার।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মজিবর সিকদার বলেন, ‘পোলাডা কইছিল, আব্বা আমি আইতাছি, একসাথে ঈদ করুম। রাতে রওনা দিতে চাইছিল, আমি সকালে আসতে কইছি। সকালে খবর আইলো, আমার রবিউল আর নাই…’ছেলের কথা বলতে গিয়েই বারবার ভেঙে পড়ছিলেন তিনি।
মা শাহিনুর বেগমও ছেলের স্মৃতিতে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘রবিউল কামাই কইরা টাকা পাঠাইতো। ওই টাকায় ওর বাবার চিকিৎসা করতেছি। কত আশা কইরা বাড়ি আইতেছিল। এখন কেউ বাড়িতে আইলেই আমি জিগাই—আমার রবিউল আইছে?’
স্বজনদের আহাজারিতে এখন ভারী পুরো বাড়ির পরিবেশ। প্রতিবেশীরাও এসে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার সকাল ৬টার দিকে রাজধানীর নর্দার নতুন বাজার এলাকায় ইসলাম পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ডিভাইডার ভেঙে বিপরীত লেনের আকাশ পরিবহনের বাসকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন এবং আহত হন অন্তত ১০ জন।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বাগেরহাটের লাইজু বেগম (৩৮), তার স্বামী কবির জমাদ্দার (৪৭), খুশি বেগম (৩৫) এবং পটুয়াখালীর রবিউল ইসলাম (২২)।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় এনসিপি কর্মী নিহত

বগুড়ায় গরুবাহী ভটভটি উল্টে ব্যবসায়ীসহ নিহত ২

কুমিল্লায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেল ছাত্রশিবির নেতার

কুষ্টিয়ায় পাথরবোঝাই ট্রাক খাদে উল্টে আগুন, চালকসহ দুইজনের মৃত্যু

দুপচাঁচিয়ায় দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, চালক নিহত

শেরপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস উল্টে যাত্রীর কব্জি বিচ্ছিন্ন

শেরপুরে ট্রলির ধাক্কায় বৃদ্ধার মৃত্যু

শেরপুরে বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় সিএনজি চালক নিহত

টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত পরিবারকে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের আর্থিক সহায়তা

