অতিরিক্ত সময়ের ঝলকে শেষ চারের টিকিট পেল আর্জেন্টিনা

শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জমে থাকা লড়াইয়ে শেষ হাসি হাসল আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ম্যাচ ছিল ১-১ সমতায়। তবে অতিরিক্ত সময়ে হুলিয়ান আলভারেজের অসাধারণ দূরপাল্লার শট এবং ইনজুরি সময়ে লাউতারো মার্টিনেজের গোল আর্জেন্টিনাকে এনে দেয় ৩-১ ব্যবধানের জয়। এই জয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে লিওনেল মেসির দল।
শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচের ১০ মিনিটে কর্নার থেকে এগিয়ে যায় তারা। লিওনেল মেসির নেওয়া নিখুঁত কর্নারে সুইস রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার বল জালে পাঠান। গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের কিছুই করার ছিল না।
গোলের পরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। তবে সুইজারল্যান্ড ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্রিল এম্বোলোর তৈরি সুযোগ থেকে গোলের সম্ভাবনা তৈরি হলেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়। এরপর ড্যান এনদোয়ের হেড এবং দূরপাল্লার কয়েকটি শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
চাপ বাড়াতেই ৬৭ মিনিটে সমতায় ফেরে সুইজারল্যান্ড। বাঁ দিক দিয়ে গড়ে ওঠা আক্রমণে রদ্রিগেজের সঙ্গে ওয়ান-টু পাস খেলে ড্যান এনদোয়ে বক্সে ঢুকে কোণাকুণি শটে মার্টিনেজকে পরাস্ত করেন।
তবে সমতা ফেরানোর পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বড় ধাক্কা খায় সুইজারল্যান্ড। ভিএআরের সহায়তায় দেখা যায়, ফাউলের জন্য নয়, বরং প্রতিপক্ষের সংস্পর্শ ছাড়াই পড়ে গিয়ে অভিনয় করেছেন ব্রিল এম্বোলো। ফলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। শেষ ১৮ মিনিট ১০ জন নিয়েই খেলতে হয় সুইসদের।
সংখ্যাগত সুবিধা পেয়েও নির্ধারিত সময়ে জয়সূচক গোল আদায় করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। শেষ দিকে নিকো গনসালেস, ম্যাক অ্যালিস্টার ও মেসির কয়েকটি প্রচেষ্টা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় কিংবা কোবেলের হাতে আটকে যায়। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
অতিরিক্ত সময়ের প্রথম ভাগে আর্জেন্টিনা একের পর এক সুযোগ তৈরি করে। থিয়াগো আলমাদার দুটি প্রচেষ্টা অল্পের জন্য গোল হয়নি। কোবেলও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে লড়াইয়ে রাখেন।
শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ ভাঙে ১১২ মিনিটে। বদলি খেলোয়াড় হোসে মানুয়েল লোপেসের পাস পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে বাঁকানো দুর্দান্ত শট নেন হুলিয়ান আলভারেজ। বল পোস্টের কোণা ঘেঁষে জালে জড়িয়ে গেলে আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
এরপর সুইজারল্যান্ড আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ইনজুরি সময়ের প্রথম মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে বল কেড়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন আলভারেজ। আলমাদার প্রথম শট কোবেল ঠেকালেও ফিরতি বলে লাউতারো মার্টিনেজ সহজেই ফাঁকা জালে বল পাঠিয়ে জয় নিশ্চিত করেন।
৩-১ ব্যবধানের এই জয় আর্জেন্টিনাকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। দীর্ঘ সময় ধরে লড়াই করা সুইজারল্যান্ড বিদায় নিলেও শেষ পর্যন্ত তাদের প্রতিরোধ ভেঙেছে আলভারেজের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য আর আর্জেন্টিনার ধৈর্যশীল ফুটবল।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

ফিফার নতুন নিয়ম ম্যাচটা নষ্ট করে দিয়েছে: সুইস কোচ মুরাত ইয়াকিন

‘আমাদের একজন সালাহ, ২৬ জন মেসি’, মিশরের সহকারী কোচ

আর্জেন্টিনার জয়ে ভুল প্রমাণিত ঘানার তান্ত্রিকের ভবিষ্যদ্বাণী

মেসি মাঠে নামলেন আর গোল করলেন, গড়লেন বিশ্ব রেকর্ড

২০০তম ম্যাচে মেসির হ্যাটট্রিক, মুগ্ধ আর্জেন্টিনা কোচ স্কালোনি

মেসির নেতৃত্বে বিশ্বকাপের দল ঘোষণা আর্জেন্টিনার

ভারতকে হারিয়ে ১২ বছর পর সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

হালান্ডের নতুন লুক পছন্দ হয়নি প্রেমিকার, বললেন ‘আমার তো কান্না পাচ্ছে’

পেলে-কাফু-রোনালদোদের রেকর্ডে ভাগ বসাবেন মেসি

