বৃষ্টিতে গর্তে আটকে যানবাহন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ২০ কিলোমিটার যানজট
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় বৃষ্টির পানিতে ডুবে থাকা গর্তে যানবাহন আটকে পড়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ঘটনা ও বিকল ট্রাক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
টানা বৃষ্টি, সড়কের বড় বড় গর্ত এবং একের পর এক দুর্ঘটনা, সব মিলিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বিশ্বরোড এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ যানজট। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এ ভোগান্তি বুধবার সকাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে ছিলেন হাজারো যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চালক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে ভারী বৃষ্টির সময় সরাইল উপজেলার বৈশামুড়া এলাকায় একটি পণ্যবাহী লরি ও একটি কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে দুটি গাড়ির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহত চালককে উদ্ধার করে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নিলেও ততক্ষণে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।
রাতভর বৃষ্টির কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে বড় বড় গর্ত ঢেকে যায়। ফলে বিশেষ করে ভারী যানবাহন এসব গর্তে আটকে পড়তে শুরু করে। বুধবার ভোরের দিকে শাহবাজপুর সেতু ও ইসলামাবাদ এলাকায় আরও দুটি পণ্যবাহী ট্রাক বিকল হয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে যানজটের বিস্তৃতি সরাইল উপজেলার শান্তিনগর, বিশ্বরোড মোড়, কুট্টাপাড়া ও শাহবাজপুর পেরিয়ে বিজয়নগরের বুধন্তী এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় ২০ কিলোমিটারজুড়ে স্থবির হয়ে পড়ে মহাসড়কের যান চলাচল।
সিলেট থেকে নেত্রকোনাগামী ট্রাকচালক নয়ন খান জানান, স্বাভাবিক সময়ে বুধন্তী থেকে কুট্টাপাড়া পর্যন্ত যেতে যেখানে ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে, সেখানে যানজটের কারণে তার আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সরাইল বিশ্বরোড গোলচত্বরে চারটি দিকের মধ্যে ঢাকা থেকে সিলেটগামী একটি লেন দিয়ে সীমিত আকারে যান চলাচল করছে। অন্যদিকে সিলেট থেকে ঢাকা ও কুমিল্লামুখী দুটি লেন বন্ধ রয়েছে। কুমিল্লা থেকে ঢাকামুখী অংশে সড়ক সংস্কারের কাজ চললেও বৃষ্টির পানিতে গর্ত ঢেকে থাকায় কিছুক্ষণ পরপর ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান আটকে যাচ্ছে। এতে যান চলাচল বারবার ব্যাহত হচ্ছে এবং যানজট আরও দীর্ঘ হচ্ছে।
এর প্রভাব শুধু মহাসড়কেই সীমাবদ্ধ নেই। যানবাহনের দীর্ঘ সারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরগামী সুহিলপুর এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে, ফলে বিকল্প সড়কেও ধীরগতির সৃষ্টি হয়েছে।
সরাইল-খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান বলেন, বিশ্বরোড মোড়ের দক্ষিণ পাশে সড়কের গর্তে ভারী যানবাহন আটকে যাওয়াই যানজটের প্রধান কারণ। পাশাপাশি বৈশামুড়া এলাকায় দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৫০ টন ওজনের একটি লরি সরানোর কাজও বুধবার সম্পন্ন হয়েছে। এসব কারণে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে সময় লাগছে।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার থেকেই হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছেন। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
জাতীয়, আঞ্চলিক এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বাছাইকৃত গুরুত্বপূর্ণ সংবাদগুলো সরাসরি আপনার ইমেইলে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)
বৃষ্টিতে গর্তে আটকে যানবাহন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ২০ কিলোমিটার যানজট
মায়ের সঙ্গে গঙ্গাস্নানে গিয়ে নিখোঁজ, দুই দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে পিটিয়ে হত্যা
চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইউএনও ফেরদৌস আরা
ঘুষ নেয়ার অভিযোগে খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসিসহ ৬ পুলিশ প্রত্যাহার
ভারতের পাহাড়ি ঢলে আখাউড়ায় দুর্ভোগে ৫১১ পরিবার, আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিচ্ছেন অনেকে
শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি মেলা এখনো জীবন্ত
তিতাস নদীতে গঙ্গাস্নান উপলক্ষে পূণ্যার্থীদের ঢল
বিয়ে বাড়িতে গান-বাজনা নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে শিশুর মৃত্যু
সমন্বয়ককে পেটানোর অভিযোগ আরেক সমন্বয়কের বিরুদ্ধে
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন