ভোর থেকেই ট্রাকের আওয়াজ আর শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততায় মুখরিত হয়ে ওঠে বগুড়ার শেরপুর শহরের বারোদুয়ারি হাট সংলগ্ন ফলের আড়ৎ। দীর্ঘ ৩০-৩৫ বছরের ঐতিহ্যবাহী এই বাজারটি এখন কেবল শেরপুর নয়, বরং পার্শ্ববর্তী ধুনট, শাজাহানপুর, নন্দীগ্রাম এবং সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও তাড়াশসহ প্রায় সাতটি উপজেলার মৌসুমী ফলের প্রধান যোগানদাতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
শহরের দক্ষিণ সাহাপাড়া দিয়ে বারোদুয়ারি হাটে প্রবেশ করলেই দেখা মেলে এই বিশাল পাইকারি বাজারের। বছরের প্রতিটি ঋতুতেই এখানে ভিন্ন ভিন্ন ফলের পসরা বসে। বর্তমানে বাজারে আধিপত্য বিস্তার করছে রসালো ফল তরমুজ। সরেজমিনে দেখা যায়, বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলা থেকে আসা তরমুজ বোঝাই ট্রাকগুলো আনলোডের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। বাজারে স্তূপ করে রাখা হয়েছে ছোট-বড় বিভিন্ন সাইজের তরমুজ, যা অনেকের কাছে বাংলালিংক তরমুজ নামে পরিচিত।
বাজারের একজন অন্যতম খুচরা বিক্রেতা তারা কুমার দাস। গত ২০ বছর ধরে তিনি এখান থেকে ফল কিনে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় খুচরা বিক্রি করেন। তিনি জানান, বর্তমানে তরমুজ বিক্রি করে প্রতিদিন তার ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা আয় হচ্ছে। শুধু তারা কুমার নন, তার মতো অন্তত ২০০ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্রতিদিন এই পাইকারি বাজার থেকে ফল কিনে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
আড়ৎদার প্রভাত কুমার দাস জানান, প্রতিদিন এই বাজারে ৭০০ থেকে ৮০০ মণ তরমুজ কেনাবেচা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে ফল নিয়ে আসেন। আড়ৎদার মংলা দাস ও ধ্রুপ সাহা বলেন, ফাল্গুন থেকে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত তরমুজের মৌসুম থাকলেও বছরের অন্যান্য সময় টাঙ্গাইলের আনারস, রাজশাহী-নওগাঁর আম ও লিচু এবং স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত পেয়ারা, পেঁপে ও কুলের বড় বাজার বসে এখানে।
পবিত্র রমজান মাস হওয়ায় বর্তমানে তরমুজের চাহিদা তুঙ্গে। খুচরা বিক্রেতা ধন্য সাহা, ফুল মিয়া, বেল্লাল হোসেন ও আবু হানিফরা জানান, পাইকারি দরে প্রতি মণ তরমুজ ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায় কেনা পড়ছে। রমজানে বিক্রি ভালো হওয়ায় প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা লাভ করতে পারছেন তারা। এই বাজারকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন অন্তত ২০ জন শ্রমিকেরও নিয়মিত কর্মসংস্থান হচ্ছে।
স্থানীয় বাজারের খুচরা বিক্রেতা মিনহাজ ও আয়নালসহ অনেকেই জানান, দূর-দূরান্ত থেকে ফল কিনতে আসা ব্যবসায়ীদের ভিড়ে সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পুরো এলাকা উৎসবমুখর থাকে।
শেরপুর উপজেলা কৃষি অফিসের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জুলফিকার হায়দার বলেন, “বারোদুয়ারি ফলের বাজারটি আমাদের দপ্তরে পাইকারি বাজার হিসেবে তালিকাভুক্ত। এটি স্থানীয় কৃষকদের জন্য যেমন আশীর্বাদ, তেমনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ফলের বিপণন কেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


