নিজস্ব প্রতিবেদক : “জলাভূমি এবং ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদযাপন” এই বিশেষ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বগুড়ার শেরপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব জলাভূমি দিবস পালিত হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে এই দিবস উপলক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন ফেডারেশন (বিবিসিএফ)-এর সার্বিক সহযোগিতায় এবং পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও সমাজের বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থার সভাপতি সোহাগ রায় সাগরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর এসএফএনটিসি-এর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন পারভেজ। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনা পেশ করেন খামারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. এনামুল হক। সভার শুরুতে বক্তারা জলাভূমির গুরুত্ব, বর্তমান প্রেক্ষাপট এবং এর বিপন্ন অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তাঁরা উল্লেখ করেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় জলাভূমির ভূমিকা অপরিসীম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বন কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন পারভেজ বলেন, সৃষ্টির শুরু থেকেই প্রতিটি প্রাণীর অস্তিত্ব পানির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পৃথিবীর মোট অক্সিজেনের প্রায় ৭০ শতাংশই আসে বিভিন্ন জলাভূমি থেকে। অথচ অপরিকল্পিত নগরায়ণ, কৃষি ও শিল্প কারখানার দূষণ এবং যত্রতত্র প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলার কারণে এই মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ আজ ধ্বংসের মুখে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন যে, অপরিশোধিত বর্জ্য পানি এবং কোনো সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ছাড়াই অবকাঠামো নির্মাণ জলাভূমির অস্তিত্বের জন্য এখন বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে সভাপতির বক্তব্যে সোহাগ রায় সাগর জলাভূমিকে একটি ‘জীবন্ত সত্তা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, মানুষের সংস্কৃতি ও চিরায়ত জ্ঞানের সঙ্গে জলাভূমির সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। মাছ ধরার সঠিক সময় নির্ধারণ, ঋতুভেদে জলাভূমির ব্যবহার এবং বন্যা শনাক্তকরণের মতো গ্রামীণ ও চিরায়ত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়েই কেবল টেকসইভাবে জলাভূমি রক্ষা করা সম্ভব। আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি এই ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান জলাভূমি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সভায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা স্থানীয় ঝাজর বিল ও বাঙ্গালী নদীসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক জলাশয় দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ইউপি সদস্য মো. হেলালুজ্জামান বাবু এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. এনামুল হক তাঁদের বক্তব্যে অবশিষ্ট জলাধারগুলো দ্রুত সংরক্ষণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান। তাঁরা বলেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখোমুখি হবে। অনুষ্ঠানে পরিবেশ প্রতিরক্ষা সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক আবু হানিফসহ স্থানীয় ঝাজর বিল পাড়ের শিক্ষার্থী, জেলে সম্প্রদায় এবং ইউপি সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


