জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের দায়মুক্তি (ইনডেমনিটি) দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। এ বিষয়ে জাতীয়ভাবে সম্মত থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
বুধবার (১১ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘জাতীয় মানবাধিকার অধ্যাদেশ, নতুন সংসদের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য সরকার দায়মুক্তি দিয়েছে এবং এ বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে ঐকমত্য থাকা জরুরি। তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় যদি কারও হাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো কোনো ঘটনা ঘটে থাকে, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, ভুক্তভোগীদের মামলা করার অধিকার আছে কি না কিংবা কেন দায়মুক্তি দেওয়া হলো।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সময় রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই পরিস্থিতিতে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার ভিত্তিতে সবকিছুকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে দেখা উচিত নয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অসংখ্য মামলা দিয়ে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। তাই ভবিষ্যতে সংঘাত ও প্রতিশোধের রাজনীতি এড়াতে সরকার পুনর্মিলনের (রিকনসিলিয়েশন) বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ পতনের পর দেশে নৈরাজ্য বা প্রতিহিংসামূলক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। সে কারণেই জাতীয় পুনর্মিলনের ধারণা সামনে আনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রুথ কমিশনের উদাহরণও বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশে একটি ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।


