অন্বেষণ ডেস্ক : নতুন ১০ টাকার নোট বাজারে ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার থেকে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে। ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ সিরিজের অংশ হিসেবে এই নোটে প্রথমবারের মতো স্থান পেয়েছে ‘জুলাই গ্রাফিতি-২০২৪’-এর চিত্র। সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর স্বাক্ষরিত এই নোটটি প্রাথমিকভাবে মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে ইস্যু করা হবে। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য শাখা অফিস থেকেও এটি সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে গ্রাহকরা সহজেই নতুন নোটটি সংগ্রহ করতে পারবেন।
উল্লেখ্য যে, নতুন ডিজাইনের এই নোটটি প্রচলিত ১০ টাকার নোটের পাশাপাশি বাজারে থাকবে। অর্থাৎ, বর্তমানে ব্যবহৃত সব ধরনের কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রা আগের মতোই বৈধ ও বিনিময়যোগ্য হিসেবে গণ্য হবে। এতে সাধারণ মানুষের লেনদেনে কোনো প্রকার বিভ্রান্তি তৈরির সুযোগ নেই।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, ১০০০, ৫০০, ২০০, ১০০, ৫০ ও ২০ টাকার নোটের ধারাবাহিকতায় এবার ১০ টাকার নোটে পরিবর্তন আনা হয়েছে। মুদ্রা সংগ্রাহকদের আগ্রহের কথা বিবেচনা করে নিয়মিত নোটের পাশাপাশি বিশেষ নমুনা বা স্পেসিমেন নোটও মুদ্রণ করা হয়েছে।
আগ্রহী ব্যক্তিরা বাংলাদেশ ব্যাংকের মিরপুরস্থ টাকা জাদুঘর থেকে নির্ধারিত মূল্যে এই স্পেসিমেন নোট সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে মনে রাখা জরুরি, এই বিশেষ নোটগুলো সাধারণ লেনদেনে ব্যবহারের জন্য নয়, বরং সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
নতুন ১০ টাকার নোটটির ডিজাইন ও রঙের ক্ষেত্রে বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়েছে। নোটটির দৈর্ঘ্য ১২৩ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ৬০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে গোলাপি রঙের প্রাধান্য স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যায়। রঙের এই বিন্যাস নোটটিকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছে।
নোটের সম্মুখভাগে বাম পাশে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের চিত্র স্থান পেয়েছে। এছাড়া মাঝখানের ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার জলছাপ ব্যবহার করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে।
অন্যদিকে, নোটের পেছনের অংশে ‘জুলাই গ্রাফিতি-২০২৪’-এর চিত্র সংযোজন করা হয়েছে। নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের দিক থেকেও নোটটিকে অত্যন্ত সুরক্ষিত করা হয়েছে। জাল নোট প্রতিরোধে এতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে নোটে জলছাপে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ এবং এর নিচে ইলেকট্রোটাইপে ‘১০’ লেখা রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রামও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান রাখা হয়েছে, যা আসল নোট চিনতে সহায়তা করবে।
সম্মুখভাগে ২ মিলিমিটার চওড়া একটি নিরাপত্তা সুতা সংযোজন করা হয়েছে। এই সুতায় ‘$10 দশ টাকা’ লেখাটি আলোর বিপরীতে ধরলে পড়া যাবে এবং নাড়াচাড়া করলে সুতার রং লাল থেকে সবুজে পরিবর্তিত হবে।
এছাড়া গভর্নরের স্বাক্ষরের ডান পাশে ‘সি-থ্রু ইমেজ’ প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়েছে। আলোর বিপরীতে ধরলে এখানে ‘১০’ অঙ্কটি দেখা যাবে। নোটের বিভিন্ন স্থানে মাইক্রোপ্রিন্টিং প্রযুক্তি যুক্ত করার ফলে এটি নকল করা দুষ্কর হবে।


