যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী প্রচারণার মঞ্চে আবারও উঠল ধর্মবিদ্বেষের বিতর্ক। টেক্সাসের ৩১তম কংগ্রেশনাল জেলার রিপাবলিকান প্রার্থী ভ্যালেন্টিনা গোমেজ প্রকাশ্যে কোরআন পুড়িয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
কলম্বিয়ায় জন্ম নেওয়া এই কট্টর ডানপন্থি প্রার্থী প্রচারণা শুরুর প্রথম দিনেই হাতে কোরআন তুলে নিয়ে তাতে আগুন ধরান। ঘটনাটির ভিডিও তিনি নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। যদিও বেশির ভাগ প্ল্যাটফর্ম ভিডিওটি সরিয়ে দিয়েছে, ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এক্সে তা এখনও রয়েছে। ফলে গোমেজের পাশাপাশি মাস্কও সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
ভিডিওতে গোমেজ শুধু কোরআনে আগুন দেননি, বরং ইসলাম ধর্মকে ‘টেক্সাস থেকে নির্মূল করার’ শপথও নিয়েছেন। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে খ্রিষ্টান রাষ্ট্র বলে দাবি করেন এবং মুসলমানদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে দেশ থেকে বহিষ্কারের আহ্বান জানান। আরও বলেন, সত্যিকারের সৃষ্টিকর্তা কেবল একজন—ইসরায়েলের ঈশ্বর।
এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মুসলিম ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। সমালোচকেরা বলছেন, ইসরায়েলের গাজায় আগ্রাসনের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম ও আরব জনগোষ্ঠীর ওপর বৈষম্য ও হামলার প্রবণতা বেড়েছে। গোমেজের এই কর্মকাণ্ড সেই উত্তেজনাকে আরও উসকে দিচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “কোরআনে যিশুর নাম ২৫ বার, আর মেরির নাম ৩৬ বার এসেছে। কোরআন পোড়াতে গিয়ে গোমেজ যিশু ও মেরিকেও অপমান করেছেন।” অন্য এক মন্তব্যে বলা হয়, এই কাজ কেবল তাঁর অজ্ঞতাকেই প্রকাশ করে।
এমনকি, সাবেক ট্রাম্প প্রশাসনের রিপাবলিকান নেতা রিচার্ড গ্রেনেলও গোমেজের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর ভাষায়, “কোরআন পোড়ানো শুধু মুসলমানদেরই আঘাত করছে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর মূল্যবোধের ওপরও হুমকি তৈরি করছে।”
ভ্যালেন্টিনা গোমেজ এর আগেও অভিবাসী, কৃষ্ণাঙ্গ ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে আলোচনায় আসার চেষ্টা করেছিলেন। তবে এবার কোরআন পোড়ানোর মতো পদক্ষেপ নিয়ে তিনি আবারও দেখালেন, রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণে ধর্মকেই হাতিয়ার করতে তিনি সবচেয়ে বেশি আগ্রহী।