অন্বেষণ ডেস্ক : আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন অস্ট্রেলিয়া ও উগান্ডার ক্রিকেট ম্যাচের মতো হতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী মুফতি আমির হামজা। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত এক নির্বাচনী মহিলা সমাবেশে তিনি এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তার মতে, ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্রটি হবে অত্যন্ত স্পষ্ট এবং একপেশে, যেখানে তাদের বিজয় সুনিশ্চিত।
সমাবেশে বক্তৃতাকালে মুফতি আমির হামজা আসন্ন নির্বাচন নিয়ে নিজের গভীর আত্মবিশ্বাসের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ক্রিকেটে যেমন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া ও তুলনামূলক দুর্বল উগান্ডার মধ্যে শক্তিমত্তার আকাশ-পাতাল পার্থক্য থাকে, এবারের নির্বাচনেও ঠিক তেমনই পরিস্থিতি দেখা যাবে। ফলাফলের জন্য সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগামীতে কী হতে যাচ্ছে তা দেখার জন্য জাস্ট ওয়েট ফর সি। তার এই বক্তব্য উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করে। প্রত্যেকের নিজ নিজ জায়গা থেকে কাজ করার জন্যও তিনি আহ্বান জানান।
কুষ্টিয়া সদর আসন নিয়ে তিনি শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ভূমিধস বিজয় অর্জিত হবে। সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং সমর্থনের ওপর ভিত্তি করেই তিনি এমন ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন। তার মতে, কুষ্টিয়ার মানুষ এখন পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের ধারক হিসেবে তারা তাকেই বেছে নেবে। স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে তার দলের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ভোটের পরিসংখ্যান ও জনমিতি বিশ্লেষণ করে তিনি তরুণ ভোটারদের আগ্রহের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে সামনে আনেন। দেশে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি তরুণ ভোটার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ চায় দাঁড়িপাল্লা ক্ষমতায় আসুক। অন্যদিকে ধানের শীষের সমর্থন রয়েছে ২৭ শতাংশ মানুষের এবং এনসিপির রয়েছে ১৭ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সমাবেশে উপস্থাপন করেন।
জোটগত রাজনীতির সমীকরণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে ১১ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে কাজ করছে। সে হিসাবে অন্যান্য দলের ভোট বাদ দিলেও এই দুই দলের তরুণ ভোটারদের সম্মিলিত সমর্থন প্রায় ৫৫ শতাংশে পৌঁছাবে। এই গাণিতিক সমীকরণের ভিত্তিতেই তিনি নির্বাচনে নিজেদের জয় নিয়ে জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং নেতাকর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি করেন।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি প্রসঙ্গেও তিনি তার বক্তব্যে আলোকপাত করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক দিলারা চৌধুরীর একটি পুরোনো মন্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি কথা বলেন। আট মাস আগে করা সেই মন্তব্যে বলা হয়েছিল, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দুই বছরের বেশি টিকতে পারবে না। মুফতি আমির হামজা উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ওই শিক্ষকের বক্তব্যটি যথেষ্ট চিন্তাভাবনা ও বিশ্লেষণের পরেই দেওয়া হয়েছিল, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক।
উক্ত নির্বাচনী সমাবেশে দলের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হুসাইন ও শহর জামায়াতের আমির এনামুল হকসহ জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা এ সময় বক্তব্য রাখেন। তারা সকলেই আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের বিজয়ের লক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।


