অন্বেষণ ডেস্ক : জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন যে তার সোশ্যাল মিডিয়া হ্যাক করার সাথে জড়িতদের ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই জাতির সামনে তাদের মুখোশ উন্মোচন করা হবে। রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকা-১৫ আসনে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি কুচক্রী মহল তার এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল হ্যাক করে অত্যন্ত নোংরা ও কুরুচিপূর্ণ পোস্ট ছড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার বিকেলে জামায়াত আমিরের ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডেল থেকে নারীদের নিয়ে একটি অবমাননাকর পোস্ট ভাইরাল হয়। বিষয়টি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তবে ঘটনার পরপরই জামায়াতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই পোস্টটি দেওয়া হয়েছিল। রবিবারের পথসভায় ডা. শফিকুর রহমান সেই বিষয়টি পরিষ্কার করে বলেন, অপকর্মকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে।
বক্তব্যে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ ও তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, আগামীর বাংলাদেশ গড়বে তরুণরা, যেখানে তারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবে এবং মুরুব্বীরা পেছন থেকে তাদের সাহস ও পরামর্শ জোগাবে। একটি বৈষম্যহীন ও সমতার দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এদেশে কোনো নারীকে হেনস্তা করা হবে না এবং প্রত্যেকে নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।
আইনশৃঙ্খলা ও দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়ে কঠোর বার্তা দেন জামায়াত আমির। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, চাঁদাবাজি বা কোনো প্রকার অনিয়মের বিরুদ্ধে জামায়াতের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো অপরাধ করলে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি সবাইকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট ও প্রতিপক্ষের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একটি দলের পরাজয় নিশ্চিত জেনে তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, কিন্তু জনগণ জানে তাদের হাতে দেশ নিরাপদ নয়। তিনি প্রশ্ন রাখেন, এখনই যদি তাদের মাথা গরম থাকে, তবে সামনে পরিস্থিতি কী হবে? আগামী ১২ তারিখ ইনসাফের পক্ষে চূড়ান্ত ফয়সালা আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এর আগে একই দিন দুপুরে জামালপুরের সিংহজানী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন ডা. শফিকুর রহমান। সেখানে তিনি গত পাঁচ দশকের রাজনীতির সমালোচনা করে বলেন, গত ৫৪ বছরে দেশে যে ফ্যাসিবাদ ও বিভাজনের রাজনীতি তৈরি হয়েছে, আসন্ন নির্বাচন সেই বস্তাপচা রাজনীতির কবর রচনা করবে। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি নতুন ধারার রাজনীতি শুরু হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।


