নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের দায়ে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আমির হামজাকে আর্থিক জরিমানা ও কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুটি পৃথক মামলায় তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তিন দিন করে মোট ছয় দিনের কারাদণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার নির্বাচন অনুসন্ধান ও তদন্ত কমিটির কার্যক্রমের অংশ হিসেবে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. আরিফুল ইসলাম এই আদেশ দেন। পরে আমির হামজার পক্ষে তাঁর আইনজীবী কাজী তৌফিকুল ইসলাম আদালতে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।
আদালতের রায় অনুযায়ী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার শান্তিডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা রাশেদ আহমেদ গত ৮ তারিখ আমির হামজার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের দুটি অভিযোগ দাখিল করেন। শুনানি ও সরেজমিন পরিদর্শনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন।
রায়ে উল্লেখ করা হয়, কুষ্টিয়া মডেল থানার মজমপুর গেট, পাঁচ রাস্তার মোড়, থানা মোড়সহ বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সংক্ষিপ্ত আদালত পরিচালনা করা হয়। পরিদর্শনকালে মজমপুর গেটে সাঁটানো আমির হামজার ব্যানারে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও মুদ্রণের তারিখ উল্লেখ না থাকার বিষয়টি আদালতের নজরে আসে।
এ সময় আমির হামজার আইনজীবী তৌহিবুল ইসলাম তুহিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মামলার বাদী রাশেদ আহমেদ বলেন, ‘রায়ে আমি সন্তুষ্ট। তবে রায় এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যানার ও পোস্টার এখনো এলাকায় রয়েছে। বিষয়টি আমরা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।’
রায়ে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এ উল্লিখিত সব বিধিনিষেধ যথাযথভাবে মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির বেঞ্চ সহকারী সজীব আহমেদ জানান, প্রার্থীকে ভবিষ্যতে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ব্যানার অপসারণ প্রসঙ্গে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রোকনুজ জামান বলেন, ‘রায়ের কপি এখনো হাতে পাইনি। কোর্ট সরাসরি প্রার্থীকে নির্দেশ দিলে তিনি তা বাস্তবায়ন করবেন। আর আমাদের মাধ্যমে অপসারণের নির্দেশ এলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’


