অন্বেষণ ডেস্ক : পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলিমকে আন্তরিকভাবে ঈদের শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। শুক্রবার (২০ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ লিখিত বাণীতে তিনি এই শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান করেন।
দীর্ঘ এক মাসব্যাপী কঠোর সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য নিয়ে আসে অফুরন্ত আনন্দ ও সম্প্রীতির এক অনন্য বার্তা। এই মহান উৎসব সমাজের সব ধরনের ভেদাভেদ ভুলিয়ে দিয়ে মানুষের মনে অনাবিল শান্তি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করতে বিশেষ ভূমিকা রাখে বলে তিনি তার বাণীতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, এই আনন্দঘন উৎসবটি মানুষের ভেতরের যাবতীয় হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে হৃদয়ে গভীর প্রশান্তি এনে দিতে সাহায্য করে। এর ফলে সমাজে বসবাসরত মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয় এবং মানুষে মানুষে সম্প্রীতির অটুট বন্ধন মজবুত হয় বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবারের ঈদ দেশের সাধারণ মুসলমান এবং সম্পূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্গনের জন্য একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। বিরোধীদলীয় এই শীর্ষ নেতা বর্তমান সময়ের এই ঈদকে ‘ফ্যাসিবাদ-উত্তর দ্বিতীয় ঈদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর রাজনৈতিক ও সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
এর কারণ হিসেবে তিনি ব্যাখ্যা করেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশে বিরাজমান চরম প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দলের অনেক নেতা-কর্মী ঈদের প্রকৃত আনন্দ উপভোগ করা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত ছিলেন। তবে বর্তমানের পরিবর্তিত স্বাধীন প্রেক্ষাপটে এই উৎসবটি সবার মাঝে একটি নতুন মাত্রা ও উদ্দীপনা যোগ করেছে।
একইসঙ্গে তিনি দেশবাসীকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, শত শত অকুতোভয় শহীদের চরম আত্মত্যাগের বিনিময়ে গোটা জাতি আজ এই মুক্ত ও স্বাধীন পরিবেশে ঈদ উদযাপনের এক দুর্লভ সুযোগ পেয়েছে। তাই উৎসবের এই আনন্দের দিনে সেই সকল শহীদদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং আহতদের যথাযথ খোঁজখবর নেওয়া দেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রধান নৈতিক দায়িত্ব।
দেশের অর্থনীতিতে নীরব কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসী বাংলাদেশিদের কথাও তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। যারা নিজেদের প্রিয় পরিবার-পরিজন থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থান করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছেন, তাদের সবার প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
সবশেষে, সমাজের হতদরিদ্র, অসহায় এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য দেশের সামর্থ্যবান সবার প্রতি তিনি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সবাইকে মনে করিয়ে দেন, ঈদের এই সার্বজনীন আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়া শুধু একটি আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় বিধান নয়, বরং এটি প্রতিটি সচেতন মানুষের একটি অন্যতম মানবিক দায়িত্বও বটে।
অধিকন্তু, তিনি তার এই বার্তায় দেশবাসীর সার্বিক কল্যাণ, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করেছেন। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, অতীতের সকল গ্লানি মুছে ফেলে সামনের দিনগুলোতে দেশে একটি গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রতিটি মানুষ তার ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে।


