ভোট দেওয়ার অধিকার ফিরে এসেছে বহু ত্যাগের বিনিময়ে—এ কথা উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে শুধু ভোটের দিন হিসেবে নয়, দেশ পুনর্গঠনের সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নীলফামারীতে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি বলেন, ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে স্বৈরাচারী শাসনামলে বহু মানুষ গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নীলফামারীর মানুষ সেই বাস্তবতার প্রত্যক্ষ সাক্ষী।
তারেক রহমান বলেন, যারা ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল, তাদের কাছ থেকে এই অধিকার উদ্ধার করতে গিয়ে বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ জীবন দিয়েছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
জনসভায় তিনি জানান, বিএনপি সরকার গঠন করলে নীলফামারী অঞ্চলের জন্য বিশেষ উন্নয়ন পরিকল্পনা নেয়া হবে। ইপিজেড সম্প্রসারণ, নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি নীলফামারী, সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জকে শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ থাকবে।
তিনি আরও বলেন, যুবকদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে, যাতে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে।
নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে সব ধর্মের খেটে খাওয়া পরিবারের গৃহিণীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে মাসিক সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালু করে সহজ শর্তে ঋণ, সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি সারা দেশে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের কথাও জানান।
রংপুর বিভাগের তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অঞ্চলটি আবার শস্য-শ্যামল হয়ে উঠবে।
এ ছাড়া নীলফামারীতে একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন, সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে পর্যায়ক্রমে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
নির্বাচনে ভয়ভীতি ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলে তারেক রহমান বলেন, ভোটারদের ভয় দেখানো বা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেষে তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে দোয়া করেন।


