অন্বেষণ ডেস্ক : অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাপানের টোকিওতে আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। রোববার (২২ মার্চ) দিবাগত রাত ১২টা ১২ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইটে তিনি টোকিওর পথে যাত্রা করেন।
মূলত টোকিও শহরে আগামী ২৪ ও ২৫ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক সংলাপে অংশ নিতেই তাঁর এই জাপান সফর। এই যাত্রায় তাঁর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন সাবেক এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।
উল্লেখ্য যে, এশিয়া মহাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা, পারস্পরিক সহযোগিতা, টেকসই উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক নানাবিধ সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত। ফলে এখানে তাঁর অংশগ্রহণ বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এই গুরুত্বপূর্ণ সফরটি মূলত সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের বিশেষ আমন্ত্রণের পরিপ্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই সম্মেলনে সমুদ্র গবেষণা ও নীল অর্থনীতি তথা ব্লু-ইকোনমিসংক্রান্ত পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিদের মাঝে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এই সম্মেলনে এশিয়া অঞ্চলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়ন এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার মতো বিষয়গুলোও সমানভাবে গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ড. ইউনূস তাঁর সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে সেখানে নিজের গঠনমূলক বক্তব্য তুলে ধরবেন বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে জাপানের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের স্ত্রী আকি আবের সঙ্গে এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেই সৌজন্য সাক্ষাতের সময়ই চলতি বছরের মার্চ মাসে তাঁর এই জাপান সফরের পরিকল্পনার বিষয়টি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে এসেছিল।
প্রসঙ্গক্রমে বলা যায়, ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সেই দায়িত্ব পালনকালে দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে তিনি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ইতালি এবং জাপানসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ সফর করেছিলেন।
তবে সেই সময়কার সরকারি সফরগুলো দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে খুব একটা কার্যকর বা দৃশ্যমান ভূমিকা না রাখায় পরবর্তীতে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের সমালোচনা ও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
এর আগে গত ২০২৫ সালের মে মাসেও প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালীন তিনি সরকারিভাবে একবার জাপান সফর করেছিলেন। সেবার জাপানে আয়োজিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিক্কেই ফোরামে অংশ নিয়েছিলেন শান্তিতে এই নোবেলজয়ী।
সেখানে অংশগ্রহণের পাশাপাশি দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ও কৌশলগত বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ফলে তাঁর এবারের এই সফরটিও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন করে মনোযোগ আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।
এদিকে বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তাঁর এই ঢাকা ত্যাগের যাত্রাটি সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর সফরের ক্ষেত্রে সব ধরনের প্রটোকল এবং নিয়ম-নীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে জাপানের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলোচনা শেষে আগামী ২৮ মার্চ তিনি দেশের উদ্দেশে রওনা হবেন। ওই দিন রাত ১০টা ৪০ মিনিটে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের এস কিউ-৪৪৬ ফ্লাইটে তিনি নিরাপদে ঢাকায় ফিরবেন বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।


