অন্বেষণ ডেস্ক : বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ব্যাপক হারে হ্রাস পেয়েছে, যার প্রভাব খুব শিগগিরই দেশের বাজারেও পড়তে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এক দিনের ব্যবধানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের বড় দরপতন হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশের বাজারেও এই মূল্যবান ধাতুর মূল্য কমানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক লেনদেনে প্রতি আউন্স স্বর্ণের মূল্য এক ধাক্কায় ১০৮ দশমিক ৮৩ ডলার কমে গেছে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণ বেচাকেনা হচ্ছে ৪ হাজার ৪৯৪ ডলারে। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এটি অন্যতম বড় একটি পতন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ মূল্যহ্রাসের কারণ হিসেবে বৈশ্বিক অর্থনীতির নানা সমীকরণকে সামনে আনছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, বিশ্ববাজারে এমন আকস্মিক ও বড় দরপতনের সরাসরি প্রভাব দেশের স্থানীয় বাজারেও পড়বে বলে জোরালো ধারণা করা হচ্ছে। দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নির্ধারণকারী মূল কর্তৃপক্ষ হলো বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুস। তারা সাধারণত আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বুলিয়ন বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই মূল্যবান ধাতুর মূল্য নির্ধারণ করে থাকে।
ফলে যেকোনো সময় দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম কমানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাজুসের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিশ্ববাজারের বর্তমান পরিস্থিতি তারা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে দামের এই নিম্নমুখী প্রবণতা স্থায়ী হলে দ্রুতই দেশের বাজারে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য যে, এর আগে গত ২০ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্বর্ণের দাম কমানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিল বাজুস। ওই দিন দেশের বাজারে সব ধরনের স্বর্ণের দাম কমানো হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্যে একলাফে ৭ হাজার ৬৯৮ টাকা কমানো হয়েছিল।
বাজুসের সেই নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি অর্থাৎ ১১.৬৬৪ গ্রাম স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকায়। গুণগত মানের দিক থেকে এটি দেশে সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন স্বর্ণ হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত।
এছাড়া ২১ ক্যারেট মানের প্রতি ভরি স্বর্ণের বর্তমান বাজারদর নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা। পাশাপাশি ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ দেশের বাজারে ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। প্রতিটি ক্যাটাগরিতেই আগের চেয়ে মূল্য ছাড় দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ক্ষেত্রেও দাম কমানো হয়েছিল গত সপ্তাহে। বর্তমানে দেশের বাজারে সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকায় বিক্রি করছেন জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন শ্রেণির ক্রেতাদের সামর্থ্যের কথা বিবেচনায় রেখে এই ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরির মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
তবে বাজার বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের এই নিম্নমুখী ধারা যদি আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকে, তবে দেশের বাজারে আরও এক দফা দাম কমার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এটি স্বর্ণের অলংকার তৈরিতে আগ্রহী সাধারণ ক্রেতা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় স্বস্তির কারণ হতে পারে।
সব মিলিয়ে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ধাতুর দামের ওঠানামা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হলেও বর্তমান দরপতন কিছুটা ব্যতিক্রমী। এখন দেশের ক্রেতা, বিনিয়োগকারী ও বিক্রেতা উভয় পক্ষই বাজুসের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছেন। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে খুব শিগগিরই নতুন মূল্যের দেখা মিলবে।


