বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের নগর এলাকায় গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলার ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বেলা ৪টা থেকে স্থানীয় নগর চার মাথা এলাকায় ‘নগর প্রভাতি সংঘ’ এর উদ্যোগে এই খেলার আয়োজন করা হয়।
নগর প্রভাতি সংঘের আয়োজনে এই খেলার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন মো. আমিনুল ইসলাম জোয়ারদার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু। খেলার শুভ উদ্বোধন করেন বগুড়া-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য গোলাম মাহাবুব প্যারিস, শেরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিন্টু, জেলা বিএনপির সদস্য আসিফ সিরাজ রব্বানি সানভি, আমরুল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রশিদ হাবিব, বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খাদেমুল ইসলাম, খামারকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব এবং খামারকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কায়কোবাদসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
আবহমান বাংলার এই খেলাটি দেখতে হাজারো মানুষের ঢল নামে। প্রতিযোগিতার বিশেষ আকর্ষণ ছিল পুরস্কার হিসেবে দুটি গরু। ফাইনালে জয়ী দলের জন্য বরাদ্দ ছিল একটি বড় সাইজের গরু এবং রানার্সআপ দলের জন্য ছিল ছোট সাইজের গরু।
শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে শেরপুর উপজেলার পারভবানিপুর একাদশ ও গাড়িদহ ইউনিয়নের বাংড়া একাদশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। মাঠের লড়াই শেষে ১-০ গোলে পারভবানিপুর একাদশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বাংড়া একাদশ। বিজয়ী দল বড় গরু এবং রানার্সআপ দল ছোট গরু পুরস্কার হিসেবে গ্রহণ করে।
খেলার মান বজায় রাখতে দুই দলেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নামিদামি খেলোয়াড়রা অংশ নেন। বাংড়া একাদশের হয়ে মাঠে নামেন বাগেরহাটের তুহিন তরফদার, খুলনার দিপায়ন গুলজার, নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত রাশেদ, খুলনার এরসাদ, গামছা রবি, বিপুল এবং বগুড়ার জহুরুল ও বাবলু। দলের অধিনায়কত্ব করেন এনামুল হক।অন্যদিকে, রানার্সআপ পারভবানিপুর একাদশের হয়ে খেলেন শিবগঞ্জের ফজলে রাব্বি, খুলনার বাপ্পি টাইগার এবং যশোরের টগরসহ দেশখ্যাত খেলোয়াড়রা।
এই দলের অধিনায়ক ছিলেন ডলার ও মাজেদ।পুরো ম্যাচটি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেন রেফারী আবুনুর হাসান মানিক। তাকে সহযোগিতা করেন লাইন ম্যান মেরাজ আলী ও শাহিনুর রহমান।বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং যুব সমাজকে সুস্থ বিনোদনের দিকে ধাবিত করতে এমন ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিকল্প নেই। খেলা শেষে অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।


