অন্বেষণ ডেস্ক : শেরপুরে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদরদপ্তর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক খুদে বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। মূলত, স্থানীয় রাজনীতিতে হঠাৎ তৈরি হওয়া অস্থিরতা এবং সংঘর্ষের জেরে জনমনে যে ভীতির সঞ্চার হয়েছে, তা দূর করতেই প্রশাসনের অনুরোধে এই বাহিনী মাঠে নেমেছে।
বিজিবি সদরদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে, জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মোট ৫ প্লাটুন বিজিবি সদস্য কাজ শুরু করেছেন। এর মধ্যে শ্রীবরদী উপজেলায় ৪ প্লাটুন এবং ঝিনাইগাতী উপজেলায় ১ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁরা সার্বক্ষণিক টহলের পাশাপাশি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা মাঠে থাকবেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত বুধবার, যখন ঝিনাইগাতী উপজেলায় একটি নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠান চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অনুষ্ঠান চলাকালে বিএনপি ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। স্থানীয় দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আতঙ্কে বন্ধ হয়ে যায়।
এই সহিংস ঘটনায় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম প্রাণ হারান। এছাড়া উভয় পক্ষের অন্তত শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদরে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, নির্বাচনের আগে এমন সহিংসতা রোধে নির্বাচন কমিশন (ইসি) অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। ঘটনার পরপরই প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং শ্রীবরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-কে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, নির্বাচনী এলাকায় যেকোনো মূল্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কমিশন বদ্ধপরিকর। প্রশাসনের রদবদল এবং বিজিবি মোতায়েন সেই কঠোর বার্তারই অংশ। স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা করতে বিজিবি ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।


