অন্বেষণ ডেস্ক : জাতীয় নাগরিক পাটির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব মাহমুদা মিতু লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বরগুনার বেতাগী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
মাহমুদা মিতু তার বক্তব্যে বলেন, লন্ডন থেকে দেশে ফিরে তারেক রহমান জামায়াতে ইসলামীকে গুপ্ত সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি মনে করেন, দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরে জনগণের উন্নয়নের কথা বলা উচিত ছিল, কিন্তু তা না করে তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন যা তার মুখে মানায় না।
বক্তব্যে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দেশের মানুষকে রাজাকার ডাকার কারণে যেমন শেখ হাসিনার পতন ত্বরান্বিত হয়েছিল, ঠিক তেমনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের গুপ্ত বলার কারণে তারেক রহমানেরও পতন হবে।
জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী সুলতান আহমেদের সমর্থনে আয়োজিত এই জনসভায় মিতু আরও বলেন, অতীতের আন্দোলনে বিএনপি ও এনসিপি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে। অথচ সেই সম্পর্কের মর্যাদা না দিয়ে এমন মন্তব্য করা রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে তিনি মনে করেন।
রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশে প্রকৃত পরিবর্তন আনতে হলে সৎ, ভদ্র ও শিক্ষিত মানুষদের রাজনীতির মাঠে এগিয়ে আসতে হবে। বরগুনা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী সুলতান আহমেদকে একজন সৎ ও যোগ্য মানুষ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন এবং তাকে নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।
এছাড়াও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, অন্যায় করলে সমালোচনা সহ্য করতেই হবে, কারণ কেউই সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয় এবং তিনি কাউকে ভয় পান না।
আগামী সরকার গঠন প্রসঙ্গে মাহমুদা মিতু দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোটই আগামীতে সরকার গঠন করবে এবং এটি দেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
নির্বাচনী সমীকরণের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, শুরুতে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। তার মতে, তাদের জোট এখন প্রতিপক্ষের চেয়ে প্রায় ৯০ ভাগ এগিয়ে রয়েছে এবং জয়ের ব্যাপারে তারা শতভাগ আশাবাদী।


