জুলাইয়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের হাতেই দেশের ভবিষ্যৎ তুলে দিতে চান বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, তরুণদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি নতুন, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে জামায়াতে ইসলামী।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
ভাষণে জামায়াত আমির বলেন, “জুলাইয়ের মতো ঐক্য গড়ে তুলে তরুণদের সঙ্গে নিয়ে আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে পারিবারিক পরিচয়ের জোরে কেউ রাষ্ট্র পরিচালনার আসনে বসতে পারবে না। রাষ্ট্র হবে সবার, সরকার হবে জনগণের।”
তিনি বলেন, জামায়াত এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চায় যেখানে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। ক্ষমতাবানদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস সবার থাকে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবরার ফাহাদ, আবু সাইদ মুগ্ধ, ওসমান হাদিসহ জুলাই আন্দোলনের তরুণরা সেই সাহস দেখিয়েছে। “এই দেশ সময়ের সাহসী সন্তানদের হাতেই তুলে দিতে চাই,” বলেন তিনি।
গণভোট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ নিরাপত্তা, সুশাসন ও ইনসাফ চায়। এসব মূল্যবোধের আলোকে রাষ্ট্রকে নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রয়াস চলছে। তিনি জানান, মৌলিক কিছু সংস্কারের লক্ষ্যে সরকার উদ্যোগ নিয়েছিল, তবে তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তার মতে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়লে এই সংস্কার প্রক্রিয়া পূর্ণতা পাবে।
ভাষণে তিনি ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন প্রসঙ্গ টেনে বলেন, নির্বাচনের নামে তখন “তামাশা” করে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছে। তার দাবি, সেই দীর্ঘ নিপীড়নের পথ ধরেই রক্তাক্ত জুলাই এসেছে। তিনি বলেন, তরুণরা নতুন বাংলাদেশ দেখতে চায়, সাধারণ মানুষও পরিবর্তন চায়। কিন্তু একটি গোষ্ঠী এই পরিবর্তনের বিরোধিতা করছে, কারণ পরিবর্তন এলে তাদের অপকর্ম বন্ধ হয়ে যাবে।
ক্ষমতায় যেতে পারলে প্রথম দিন থেকেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করার কথাও বলেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শাসকশ্রেণির একটি অংশ সরকারি পদকে ব্যক্তিগত মালিকানা হিসেবে দেখেছে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও পদ-পদবি দলীয় ও ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
ভাষণের শেষাংশে তিনি বলেন, “আমরা আর জুলাইয়ের মতো রক্তাক্ত ইতিহাস চাই না। এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে জনগণকে অধিকার আদায়ের জন্য রাস্তায় নামতে হবে না।”


