অন্বেষণ ডেস্ক : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে গলাকাটা শিশু উদ্ধারের ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (১ মার্চ, ২০২৬) উপজেলার বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক এলাকার দুর্গম পাহাড় থেকে সাত বছরের ওই মেয়েটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয় শ্রমিকরা। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শিশুটির বাবাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।
উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম ইরা। তার বয়স মাত্র সাত বছর। সে উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদারপাড়া এলাকার মো. মনিরুল ইসলামের মেয়ে। ইরা স্থানীয় মসজিদ্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার নিজ বাড়ি থেকে ঘটনাস্থল অর্থাৎ ইকোপার্কের দূরত্ব প্রায় সাত কিলোমিটার। এত দূরে শিশুটি কীভাবে পৌঁছাল, তা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল।
ইকোপার্ক সড়কে কর্মরত স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল হাসান ও আরিফুল ইসলাম রনি জানান, তারা ঘটনার সময় সড়কে ব্লকের কাজ করছিলেন। এমন সময় এক্সক্যাভেটরের চালক মাটি কাটার ফাঁকে হঠাৎ দেখতে পান, জঙ্গলের ভেতর থেকে একটি মেয়ে ধীর পায়ে রাস্তার দিকে আসছে। শিশুটির সারা শরীর রক্তে ভেজা ছিল এবং গলার নলী কাটা অবস্থায় ছিল।
দৃশ্যটি দেখার পর চালক চিৎকার দিলে শ্রমিকরা দ্রুত সেখানে ছুটে যান। তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটির রক্তাক্ত গলা গামছা দিয়ে বেঁধে রক্তপাত বন্ধের চেষ্টা করেন। এরপর দ্রুত একটি ট্রাকে করে তাকে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে শিশুটির এই অবস্থার পেছনে কারা জড়িত, সে বিষয়ে উদ্ধারকারীরা তখন নিশ্চিত কিছু জানাতে পারেননি।
সীতাকুণ্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইসরাত জাহান মহুয়া জানান, হাসপাতালে আনার সময় শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। তার গলার সামনের দিক ধারালো অস্ত্র দিয়ে গভীরভাবে কাটা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হয়। চিকিৎসকরা তার জীবন বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। যারা শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়েছিলেন, পুলিশ তাদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছে। বাড়ি থেকে প্রায় ৭-৮ কিলোমিটার দূরে এমন দুর্গম পাহাড়ে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার পেছনে পরিচিত বা আত্মীয়স্বজন জড়িত বলে পুলিশ শুরু থেকেই ধারণা করছিল।
ঘটনার মোড় ঘুরে যায় যখন শিশুটিকে সীতাকুণ্ড থেকে চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হচ্ছিল। পথে কুমিরা এলাকায় বাবা মনিরুল ইসলামকে দেখতে পায় শিশুটি। বাবাকে দেখামাত্রই সে চোখের ইশারায় এবং আকার-ঙ্গিতে জানায়, তাকে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়ার পেছনে বাবার সম্পৃক্ততা রয়েছে। এই ইঙ্গিতের ভিত্তিতে পুলিশ তাৎক্ষণিক মনিরুল ইসলামকে হেফাজতে নেয়। বর্তমানে তাকে থানায় রেখে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


