বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মাথাইল চাপড় গ্রামে একটি পৈতৃক সেচ নলকূপের লাইসেন্স বাতিল ও বিদ্যুৎ সংযোগ অবৈধভাবে বিচ্ছিন্ন রাখার অভিযোগ উঠেছে।
এর ফলে সংশ্লিষ্ট কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কৃষক মো. মাসুদ রানার বাবা মৃত আনিসুর রহমান ১৯৮৮ সাল থেকে ওই এলাকায় সেচ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। বর্তমানে মাসুদ রানা এটি পরিচালনা করছেন। ২০২১ সালে যাচাই-বাছাই শেষে তাকে লাইসেন্স প্রদান করা হলেও ২০২৩ সালে তা একবার বাতিল হয়।
পরবর্তীতে আপিলের মাধ্যমে লাইসেন্স পুনর্বহাল হলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সংযোগ চালু করে। কিন্তু ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর মিটারে ত্রুটি দেখা দিলে নতুন মিটারের জন্য টাকা জমা দিয়েও আর সংযোগ পাননি তিনি। পরে তিনি জানতে পারেন, ১৯ আগস্ট তার লাইসেন্স পুনরায় বাতিল করা হয়েছে, যার কোনো পূর্ব নোটিশ তাকে দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সংযোগ পুনঃস্থাপনের নির্দেশ দিলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএডিসি (সেচ) বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ওই লাইসেন্সটি বাতিল করা হয়েছে।”
অন্যদিকে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম উৎপল মন্ডল জানান, সেচ কমিটির পক্ষ থেকে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত আসায় পুনরায় বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমু জানান, পূর্বের সেচ কমিটির সিদ্ধান্তে লাইসেন্স বাতিল হওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে বর্তমান অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে।
এই পুরো ঘটনা ও প্রশাসনিক জটিলতার প্রতিবাদে এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ ও লাইসেন্স পুনর্বহালের দাবিতে রবিবার (৩ মে) দুপুরে শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ভুক্তভোগী মো. মাসুদ রানা। সেখানে তিনি এই পরিস্থিতির সুষ্ঠু সমাধান ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।


