বগুড়ার শেরপুরে দীর্ঘ ১৫ দিন পর মায়ের কোল ফিরে পেল একটি ছানা পেঁচা। মা ও ছানা পাখির এই বিরল মিলনের দৃশ্য দেখে আপ্লুত হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের কালিয়াকৈর গ্রামে ছানাটিকে অবমুক্ত করে জীববৈচিত্র্য ও প্রকৃতি সংরক্ষণে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্বাধীন জীবন’।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ এপ্রিল সকালে কালিয়াকৈর গ্রামে একটি অসুস্থ ছানা পেঁচা রাস্তার ওপর পড়ে থাকতে দেখেন এক কৃষক। উড়তে না পারা ছানাটিকে উদ্ধার করে তিনি পরিচর্যার জন্য ‘স্বাধীন জীবন’ সংগঠনের কাছে হস্তান্তর করেন। দীর্ঘ ১৫ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পর ছানাটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে এবং উড়তে শেখে। শনিবার সন্ধ্যায় যে স্থানে ছানাটি পাওয়া গিয়েছিল, ঠিক সেখানেই সেটিকে অবমুক্ত করা হয়।
স্বাধীন জীবনের নির্বাহী পরিচালক আবদুর রাজ্জাক জানান, ছানাটিকে গাছের ডালের কাছে নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার সাথে সাথেই ওপরের ডাল থেকে ছুটে আসে মা পেঁচা। দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর মা পেঁচাটি তার ছানাকে কাছে পেয়ে নিবিড় আদরে আগলে রাখে। কিছুক্ষণ পর মা ও ছানা ডানা মেলে গভীর জঙ্গলে হারিয়ে যায়।
স্থানীয় কৃষক তোফাজ্জল হোসেন ও আমজাদ হোসেন বলেন, “আমাদের এলাকায় প্রচুর গাছ থাকায় ঝড়-বৃষ্টিতে প্রায়ই পাখির ছানা মাটিতে পড়ে যায়। আমরা সেগুলো উদ্ধার করে স্বাধীন জীবনের কাছে পৌঁছে দিই। তাদের যত্ন ও সুশ্রূষায় পাখিগুলো সুস্থ হয়ে আকাশে ওড়ে, যা দেখে আমাদের খুব ভালো লাগে।” সীমাবাড়ি
বাজারের ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা জানান, সংগঠনটির এমন কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে গ্রামের শিশু-কিশোররাও এখন বন্যপ্রাণী রক্ষায় সচেতন হচ্ছে।
আবদুর রাজ্জাক বলেন, “পেঁচা নিশাচর প্রাণী হওয়ায় মূলত সন্ধ্যার দিকেই আমরা ছানাটিকে অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিই। ছানাটিকে দেখে মা পাখির এভাবে ছুটে আসা ছিল এক অনন্য মমতা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।”
তিনি আরও জানান, গত ১৫ বছর ধরে ছাত্র, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গঠিত এই সংগঠনটি স্থানীয় পর্যায়ে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।


