বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং পরবর্তীতে সুকৌশলে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাতের অভিযোগ তুলে বগুড়ার শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক নারী। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নারী ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা ও বর্তমানে ঢাকার উত্তরায় বসবাসরত নাট্য পরিচালক ও স্ক্রিপ্ট রাইটার রাজিন আলমগীর ওরফে সুজন সিদ্দিকীর (৩৯) বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নারী জানান, প্রায় এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে সুজন সিদ্দিকীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সুজন নিজেকে পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার হিসেবে পরিচয় দেন এবং তার ভাইয়ের মালিকানাধীন মিডিয়া হাউসে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখান। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং সুজন তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর সুজন তাকে বিয়ের কথা বলে ময়মনসিংহের একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যান। সুজনের কথামতো তিনি তার কাছে থাকা ৩ লক্ষ টাকা এবং সাড়ে ৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার সঙ্গে নিয়েছিলেন। সেখানে তাকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে অচেতন করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন সুজন। পরে অচেতন অবস্থার সুযোগ নিয়ে তার সাথে থাকা টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে পালিয়ে যান সুজন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, এর আগেও বিভিন্ন সময় ব্যবসা ও মিডিয়ায় কাজের অজুহাতে ওই নারীর কাছ থেকে আরও কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন সুজন। গত তিন মাস ধরে সুজন তার সাথে সব ধরণের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন।
সর্বশেষ ঈদের তিন দিন আগে ওই নারী সুজনের বাসায় গেলে সুজন ও তার পরিবারের সদস্যরা তাকে চিনতে অস্বীকার করেন এবং বাড়ি থেকে বের করে দেন। এই প্রতারণা চক্রে সুজনের ভাই রউফ তানভীর রুহি ও ভগ্নিপতি সুমন আহমেদসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জড়িত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বর্তমানে নিঃস্ব ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ওই নারী প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাজিন আলমগীর ওরফে সুজন সিদ্দিকীর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এমনকি তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিও বর্তমানে নিষ্ক্রিয় রয়েছে।


