গলাচিপায় ৫ খাল সাঁতরে স্কুলে যায় খুদে শিক্ষার্থীরা

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দুর্গম চরকারফারমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন শীত-বর্ষা উপেক্ষা করে পাঁচটি খাল সাঁতরে স্কুলে যাতায়াত করতে হচ্ছে। যাতায়াতের জন্য কোনো সড়ক বা বিকল্প নৌযান না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে অর্ধশতাধিক শিশু। ফলে অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে স্কুলবিমুখতা তৈরি হচ্ছে।
চরকারফারমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. জহিরুল ইসলাম জানায়, প্রতিদিন ৭-৮ জন সহপাঠীর সঙ্গে পাঁচটি খাল সাঁতরে তাকে স্কুলে আসতে হয়। বৃষ্টি বেশি হলে বই-খাতা ভিজে যায় এবং তখন কয়েক দিন স্কুলে আসা সম্ভব হয় না। প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াসিন জানায়, তাদের একটি পারিবারিক নৌকা থাকলেও সেটি নিয়ে তার বাবা নদীতে মাছ ধরতে যান। ফলে বাধ্য হয়ে খাল সাঁতরেই তাকে স্কুলে আসতে হয়। সারাদিন ভেজা শরীরে থাকায় সে প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং স্কুলে অনুপস্থিত থাকে।
দ্বীপচরটি গলাচিপা সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। এর দক্ষিণে ম্যানগ্রোভ বন ও বঙ্গোপসাগর, পশ্চিমে রামনাবাদ নদী, পূর্বে তেঁতুলিয়া এবং উত্তরে উত্তাল আগুনমুখা নদীর মোহনা। চরে কোনো বেড়িবাঁধ না থাকায় জোয়ারের পানিতে প্রায়ই স্কুল মাঠ ও রাস্তাঘাট ডুবে থাকে। ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫১ জন শিক্ষার্থী (২৬ জন ছাত্র ও ২৫ জন ছাত্রী) এবং তিনজন শিক্ষক রয়েছেন।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দক্ষিণে বোয়ালিয়া স্লুইসগেট হয়ে আগুনমুখা নদীর খেয়া পার হয়ে চরকারফারমায় পৌঁছাতে হয়। এরপর বিদ্যালয়ে যেতে পথিমধ্যে পাঁচটি খাল পার হতে হয়। কোনো রাস্তা না থাকায় এবং জালের মতো ছড়িয়ে থাকা খালের কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিয়ত এই প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের জমিদাতা ও সাবেক সভাপতি শাহিদা বেগম জানান, চরে ৮০টি পরিবার বসবাস করে। স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি জমি দিলেও রাস্তা করার সামর্থ্য তার নেই। সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর হোসেন টুটু রাস্তা না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বর্তমানে বরাদ্দ নেই, তবে পরবর্তীতে বরাদ্দ পেলে রাস্তার কাজ করা হবে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম সগীর বিষয়টিকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, রাস্তা না থাকায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে। বিষয়টি ইউএনও এবং প্রতিমন্ত্রীকে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক জানান, আগামী বরাদ্দ থেকে স্কুলে যাওয়ার উপযোগী একটি রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হবে।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে



