বগুড়া জেলায় নানা আলোচনা, সমালোচনা এবং কিছু নাটকীয় ঘটনার মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। জেলার ৭৭টি কেন্দ্রে মোট ৩৭ হাজার ২০১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে প্রশ্নপত্র বিভ্রাট, দায়িত্ব অবহেলার দায়ে শিক্ষকদের অব্যাহতি এবং একজন পরীক্ষার্থীর জন্য বিশাল প্রশাসনিক প্রহরার মতো ঘটনাগুলো ছিল জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
বগুড়া জেলা প্রশাসনের শিক্ষা শাখা সূত্রে জানা গেছে, এবার এসএসসি পরীক্ষায় ২৬ হাজার ৫৮২ জন, দাখিল পরীক্ষায় ৭ হাজার ৮৯৭ জন, ভোকেশনালে ২ হাজার ৭০২ জন এবং দাখিল ভোকেশনালে ২০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন।
পরীক্ষা চলাকালীন সবচেয়ে বড় ভুলের ঘটনাটি ঘটে শেরপুর উপজেলার শহীদিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে। সেখানে ২৯ জন নিয়মিত দাখিল পরীক্ষার্থীর হাতে পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। এই গাফিলতির দায়ে হল সুপার ও চার কক্ষ পরিদর্শককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে সোনাতলা সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সেট কোড নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা ভাঙচুর চালান। এ ঘটনায় কেন্দ্র সচিবকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৯৮ জন পরীক্ষার্থীর খাতা আলাদাভাবে মূল্যায়নের আশ্বাস দিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
শিবগঞ্জ উপজেলার গুজিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দেখা গেছে এক ব্যতিক্রমী চিত্র। সেখানে হিসাববিজ্ঞান পরীক্ষায় নিবন্ধিত পরীক্ষার্থী ছিলেন মাত্র একজন। কিন্তু বিধি মোতাবেক ওই একজন পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা নিতেই কেন্দ্র সচিব, ট্যাগ অফিসার ও পুলিশ সদস্যসহ মোট ৮ জন কর্মকর্তাকে নিয়োজিত থাকতে হয়, যা এলাকায় বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করে।
এছাড়াও পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ধুনট উপজেলায় এক ভোকেশনাল পরীক্ষার্থীকে নকলসহ হাতেনাতে ধরে বহিষ্কার করেন ইউএনও আরিফ উল্লাহ নিজামী।
সার্বিকভাবে পরীক্ষা সফল দাবি করলেও অব্যবস্থাপনা নিয়ে জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের বিশেষ বিবেচনায় মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


