বগুড়ার শেরপুর পৌর শহরের শিশু পার্কে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চৈত্র সংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষকে ঘিরে সোমবার (১৩ এপ্রিল) দিনব্যাপী আয়োজিত এই উৎসবে ভক্তি ও লোকজ আধ্যাত্মিকতার এক রোমাঞ্চকর পরিবেশ তৈরি হয়। পূজার প্রধান আকর্ষণ ভক্তদের ঝুঁকিপূর্ণ শারীরিক কসরত দেখতে মেলা প্রাঙ্গণে হাজারো মানুষের ঢল নামে।

সনাতন ধর্মের শিব গাজনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই পূজায় দেখা যায় তান্ত্রিক আচারের নানা দিক। সন্ন্যাসী কানু চন্দ্র দাসের পরিচালনায় ভক্ত কৃষ্ণ দাস ও আনন্দ দাসের পিঠে লোহার বড়শি গেঁথে ঘূর্ণায়মান চড়ক গাছে তোলা হয়। শূন্যে ঘোরার সময় তাদের কোলে মানত করা শিশুদের তুলে দেওয়া হয়। একই সময়ে বাবলু দাস নামের এক ভক্ত নিজের পায়ে বড়শি বিদ্ধ করে সাহসিকতার প্রদর্শন করেন।

এছাড়া ভক্তদের পিঠ থেকে বড়শি গেঁথে ঘোরার সময় কবুতর উড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ভক্তরা প্রসাদ হিসেবে বাতাসা ছিটিয়ে দেন।
ভক্তরা জানান, গভীর বিশ্বাস ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে শিবের কৃপা লাভের আশায় তারা যুগের পর যুগ এই কঠিন আচার পালন করে আসছেন।
এর আগে সকালে শিব পূজা, যজ্ঞ ও ভক্তিমূলক সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। বিকেলে চড়ক গাছ ঘিরে মূল আচার অনুষ্ঠিত হয়। পূজা উপলক্ষে বসে গ্রামীণ মেলা, যেখানে হস্তশিল্প, লোকজ খাবার ও নাগরদোলার আয়োজনে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে মেলা প্রাঙ্গণ এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
স্থানীয় পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, শত বছরের এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে প্রতিবছরই বড় পরিসরে এই আয়োজন করা হয়। এটি শুধু ধর্মীয় আচার নয়, বরং স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। উৎসব নির্বিশেষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন।


