সিলেট থেকে কক্সবাজারগামী হানিফ পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাস জ্বালানি তেল শেষ হয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে মাঝপথে থেমে গেছে। এতে প্রায় ৩০ জন যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
আজ বুধবার সকাল সাতটার দিকে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বানুর বাজার এলাকায় বাসটির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সিলেট থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে বাসটি।
সকাল আটটার দিকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়, মহাসড়কের এক পাশে বাসটি থেমে আছে। কয়েকজন যাত্রী বাসের ভেতরে অপেক্ষা করছেন, আবার কেউ কেউ বিকল্প যানবাহনের খোঁজে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছেন। বাসের চালকের সহকারী বালতি নিয়ে আশপাশের ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও তেলের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি।
বাসের এক যাত্রী জানান, তিনি কক্সবাজার হয়ে টেকনাফ যাওয়ার উদ্দেশ্যে সিলেট থেকে বাসটিতে ওঠেন। পথে কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার পর অল্প অল্প করে জ্বালানি নেওয়া হয়। কোথাও ১০ লিটার, কোথাও ২০ লিটার দেওয়া হয়েছে। এমনকি ১০ লিটারের বেশি তেল পেতে অতিরিক্ত টাকাও দিতে হয়েছে। এরপরও গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই তেল শেষ হয়ে যায়।
বাসচালক ওসমান গনি গণমাধ্যমে জানান, সিলেট থেকে কক্সবাজার যেতে তাঁর বাসে প্রায় ১৬০ লিটার জ্বালানি প্রয়োজন। যাত্রা শুরুর সময় বাসে ছিল ৭০ লিটার তেল। পথে কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে চেষ্টা করে তিনটিতে অল্প পরিমাণ জ্বালানি পাওয়া গেছে। বাকি জায়গাগুলোতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল পাওয়া যায়নি। ফলে সীতাকুণ্ডে এসে বাসটি থেমে যায়।
তিনি বলেন, সীতাকুণ্ড থেকে কক্সবাজার যেতে আরও অন্তত ৬০ লিটার জ্বালানি প্রয়োজন। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে চট্টগ্রামে নামার কথা থাকা কয়েকজনকে লোকাল পরিবহনে তুলে দেওয়া হচ্ছে। অন্য যাত্রীদের জন্য কোম্পানির বিকল্প বাসের ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা দ্রুত সমস্যার সমাধান চান। মাঝপথে বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রাপথে অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগ আরও বেড়েছে বলে জানান তারা।


