সারের দাবিতে বিক্ষোভ, মামলার আসামি হয়ে বাড়িছাড়া কৃষক

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার বিতরণে বাধা এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, উপজেলার গণাইয়েরকুটি গ্রামের আল আমিন মোল্লা ও সুরুজ মিয়া। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মামলার আসামিরা সবাই পেশায় কৃষক।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সোনাহাট ইউনিয়নের পাটেশ্বরী ব্রিজপাড় এলাকায় সার না পাওয়ার আশঙ্কায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কৃষকরা। ওই সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারকে অবরুদ্ধ করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার তিনি বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় এই মামলা দায়ের করেন।

এজাহারে জানা যায়, উপজেলার বিএডিসি সার ডিলার মেসার্স আফি সার ঘরের গুদামে সেপ্টেম্বর মাসের বরাদ্দের ৪৮৭ বস্তা সার মজুত ছিল। এর মধ্যে ডিএপি ২৩৫, টিএসপি ৯৫ ও এমওপি ১৫৭ বস্তা। সরকার নির্ধারিত মূল্যে এই সার বিতরণের জন্য সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ওই গুদামে যান। সেখানে কৃষকদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছিল।
কৃষি কর্মকর্তার অভিযোগ, যাচাই-বাছাই চলাকালে কয়েকজন চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে ও সঙ্গে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গালিগালাজ করা হয়। পরে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সময় হামলা চালিয়ে কিল-ঘুষি মারা হয়। এতে কয়েকজন আহত হন। হামলার পর তাদের একটি ঘরে আটকে রেখে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। আহত কৃষি কর্মকর্তা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন কৃষক জানান, আমন মৌসুমে চাষাবাদের খরচ বেড়েছে। সরকার নির্ধারিত দামে সার পাওয়ার আশায় তারা ডিলারের কাছে গিয়েছিলেন। সার না পাওয়ার আশঙ্কায় তারা সড়কে বিক্ষোভ করেন। কিন্তু এখন মামলার কারণে তারা গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছেন এবং অনেকেই বাড়িছাড়া হয়েছেন।
এ বিষয়ে মামলার বাদী ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান, সার বিতরণে অসহযোগিতা ও কৃষি কর্মকর্তার ওপর হামলার অভিযোগে মামলা হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। নিরপরাধ কাউকে গ্রেফতার করা হবে না এবং সাধারণ কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে

