অন্বেষণ ডেস্ক : দেশের বাজারে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে স্বর্ণের দাম। এবার এক লাফে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম ভরিতে ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকায়। এই দাম বাড়ার মাধ্যমে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে স্বর্ণের বাজারে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হলো।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে সারা দেশে নতুন এই দাম কার্যকর হবে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণ বা পাকা সোনার দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বুধবার এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়। সেখানেই বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীতে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য গণমাধ্যমে জানানো হয়।
জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের এই সংগঠনটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটের পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেই তারা দাম সমন্বয় করে থাকেন। এবারের উল্লম্ফন দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। এর আগে কখনোই একদিনে স্বর্ণের দাম এত বিপুল পরিমাণে বাড়তে দেখা যায়নি।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, এখন থেকে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ কিনতে গ্রাহককে ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা গুনতে হবে। অর্থাৎ, সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণালঙ্কার কেনা আরও কঠিন হয়ে পড়ল। মূলত তেজাবী স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণেই বাজুসকে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, স্বর্ণের অলঙ্কার কেনার সময় নির্ধারিত দামের সঙ্গে মজুরি এবং ভ্যাট যুক্ত হয়। ফলে ক্রেতা পর্যায়ে এক ভরি গহনার দাম ৩ লাখ টাকার কাছাকাছি বা তার বেশি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক অনুষ্ঠানের আগে এই দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই নতুন দাম বলবৎ থাকবে। সারাদেশের জুয়েলারি দোকানগুলোকে এই তালিকা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই তারা নিয়মিত দাম মনিটরিং করে থাকে।


