আস্থা ভোটে জিতেই বিতর্কিত জ্যোতিষীকে বরখাস্ত করলেন থালাপতি বিজয়

অন্বেষণ ডেস্ক : তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয় আজ বুধবার রাজ্য বিধানসভায় ১৪৪ ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশভাবে আস্থা ভোটে জয়লাভ করেছেন।
তবে এই বিজয়ের পরপরই তুমুল বিতর্কের জেরে তাঁর বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওএসডি পদ থেকে রাধন পণ্ডিত ভেত্রিভেল নামের এক জ্যোতিষীকে সরিয়ে দিয়েছেন তিনি।
ফলে, ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
আজ ১৩ মে ২০২৬ তারিখে বিধানসভার এই গুরুত্বপূর্ণ আস্থা ভোটে জয়ের পরপরই তিনি এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য যে, ভেত্রিভেলকে মুখ্যমন্ত্রীর ওএসডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। অনেকেই এই নিয়োগকে বাঁকা চোখে দেখছিলেন।
তবে, এই জ্যোতিষী তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে একেবারে নতুন কোনো মুখ নন। একসময় তিনি সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জে জয়ললিতার অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করতেন।
সেই সময় জয়ললিতা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর পরামর্শ নিতেন বলে জানা যায়।
অন্যদিকে, ভেত্রিভেলের একটি বড় ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণিত হওয়ার পর জয়ললিতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে।
কথিত আছে, ভেত্রিভেল জয়ললিতাকে প্রবলভাবে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, আয়বহির্ভূত সম্পদ মামলায় তাঁর কোনো কারাদণ্ড হবে না।
কিন্তু বাস্তব চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে আদালত জয়ললিতাকে কারাদণ্ড প্রদান করেন।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের দাবি, এই কারাদণ্ডের পর জয়ললিতা ওই জ্যোতিষীর পরামর্শ নেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। এরপরই ভেত্রিভেল রাজ্য ছেড়ে সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমান।
মূলত এই সময়েই তিনি নিজের একটি নতুন পরিচিতি গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তিনি নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘রাধন পণ্ডিত ভেত্রিভেল’।
এই নামের মধ্যে একটি উত্তর ভারতীয় ছাপ স্পষ্ট। প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে নিজের পরিচিতি ও প্রভাব বাড়াতেই তিনি সুকৌশলে এই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
তিনি মূলত চেন্নাইয়ের বাসিন্দা হলেও কিছুদিন সিঙ্গাপুরে কাটান। সিঙ্গাপুর থেকে পরে তিনি ভারতের দিল্লিতে চলে যান।
ভেত্রিভেলের ঘনিষ্ঠজনেরা বলছেন, জ্যোতিষশাস্ত্রের হিসাব–নিকাশ এবং বৃহত্তর পরিচিতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
বেশ কিছুদিন পর তিনি দিল্লি থেকে পুনরায় তামিলনাড়ুতে ফিরে আসেন।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দিল্লি থেকে ফেরার পর এক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে তিনি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক পরিসরে প্রবেশ করেন।
খুব দ্রুতই অভিনেতা বিজয়ের রাজনৈতিক বলয়ে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। তিনি বিজয়ের রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করেন।
এমনকি, ভেত্রিভেল মুখ্যমন্ত্রীকে এমন একটি আসন থেকে নির্বাচন করার পরামর্শ দেন, যার নামের শুরু ইংরেজি ‘ভি’ অক্ষর দিয়ে হয়।
নির্বাচনের বেশ আগে থেকেই তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এই অভিনেতার অভাবনীয় উত্থান হবে।
তাঁর সেই ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী বিজয় রাজনৈতিক সাফল্য পেলেও, শেষ পর্যন্ত আস্থা ভোটে জয়ের পরপরই এই জ্যোতিষীকে সরকারি পদ থেকে বিদায় নিতে হলো।
পাঠক মন্তব্য (০টি মন্তব্য)
প্রথম পাঠক হিসেবে মতামত দিন
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৫টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই

ভারতের আন্দোলনের নেপথ্যে বাংলাদেশ: দাবি দিলীপ ঘোষের

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমোদন বাতিল, নতুন ৩ স্থান নির্ধারণ

নেপালে বুধিগণ্ডী নদীতে আকস্মিক বন্যা, ভেসে গেছে ঘরবাড়ি

চেন্নাই বিমানবন্দরে মোদিকে স্বাগত জানালেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়

সৌদি আরবে বিমানবন্দরে হুতিদের হামলা, ২ বাংলাদেশিসহ নিহত ১২, আহত ৩০৯

মোদির পতন দেখার অপেক্ষায় আছি, আসিফ নজরুল

দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি আটক

১২ লাখ রোহিঙ্গার বোঝা একা বহন করতে পারে না বাংলাদেশ: আইনমন্ত্রী

