অন্বেষণ ডেস্ক : ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী সম্প্রতি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ইঙ্গিতবহ বার্তা প্রদান করেছেন। মেক্সিকো সিটিতে ভারতীয় দূতাবাস আয়োজিত ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর তিনি এই মন্তব্য করেন। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ছবি শেয়ার করে তিনি দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে কথা বলেন।
রাষ্ট্রদূত আনসারী তাঁর বার্তায় ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের ভিত্তি হিসেবে তিনটি মূল স্তম্ভের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক হতে হবে সমতা, পারস্পরিক আস্থা এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
মেক্সিকোতে ভারতীয় দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স দিপ্তী গানজি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ার পর রাষ্ট্রদূতকে অত্যন্ত উষ্ণ ও আন্তরিক অভ্যর্থনা জানান। কূটনৈতিক মহলে এই ঘটনাটিকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মুশফিকুল ফজল আনসারী তাঁর স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “সমতা, পারস্পরিক আস্থা ও গণআকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান রেখে বাংলাদেশের বন্ধুত্ব হবে বিস্তৃত।” এই সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর অর্থবহ বার্তাটি বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, রাষ্ট্রদূতের এই সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় সমর্থন জানিয়েছেন ভারতের প্রখ্যাত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত। তাঁর এই প্রতিক্রিয়া বা ‘লাইক’ প্রদানকে ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক এবং একাডেমিক মহলে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বার্তাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দুই প্রতিবেশী দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ভারসাম্যপূর্ণ নীতি কেমন হওয়া উচিত, তার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।
বিশেষ করে, ‘গণআকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান’ বিষয়টি উল্লেখ করার মাধ্যমে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ফলে, আগামী দিনগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জনমুখী হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দূতাবাসের আমন্ত্রণে তিনি এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। মেক্সিকোতে দুই দেশের কূটনীতিকদের মধ্যে যে সৌহার্দ্যপূর্ণ বিনিময় হয়েছে, তা সম্পর্কের বরফ গলাতে সাহায্য করতে পারে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এই ঘটনার বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই দেশের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার এই আহ্বান কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।


