অন্বেষণ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই সমুদ্রের গভীরে নিজেদের গোপন মিসাইল সুড়ঙ্গ উন্মোচন করেছে ইরান। বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এই সুড়ঙ্গের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করা হয়, যেখানে শত শত ক্রুজ মিসাইল হামলার জন্য প্রস্তুত অবস্থায় দেখা গেছে।
আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকাশিত ভিডিওতে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) নৌ শাখার কমান্ডার আলীরেজা তাঙসিরিকে সুড়ঙ্গের ভেতরে অবস্থান করতে দেখা যায়। তিনি সেখানে মিসাইলগুলোর প্রস্তুতি পরিদর্শন করেন। ফুটেজে দেখা যায়, পানির নিচে একাধিক মিসাইল উৎক্ষেপণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে ব্যবহারযোগ্য।
নৌ কমান্ডার আলীরেজা তাঙসিরি জানান, সমুদ্রের নিচে তাদের মিসাইলের একটি বিশাল ও বিস্তৃত নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে। মূলত উপসাগরীয় অঞ্চল এবং ওমান সাগরে অবস্থানরত মার্কিন নৌজাহাজগুলোর সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলা করতেই এই বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই এই ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এসব সুড়ঙ্গে কয়েকশ শক্তিশালী মিসাইল মজুদ রয়েছে। এগুলোর পাল্লা প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার, যা অনেক দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। এছাড়া তাদের ভাণ্ডারে ‘কাদের ৩৮০ এল’ নামের বিশেষ মিসাইল রয়েছে, যা লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত হানার আগ পর্যন্ত স্মার্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্র্যাক করতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানের এই ভিডিও প্রকাশের পর কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেন, হামলা এড়াতে হলে তেহরানকে অবশ্যই নতুন চুক্তিতে আসতে হবে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।
ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিশাল এক যুদ্ধজাহাজের বহর ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই বহরের নেতৃত্বে রয়েছে রণতরী ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’। তিনি উল্লেখ করেন, এর আগে ভেনেজুয়েলায় পাঠানো বাহিনীর চেয়েও এটি অনেক বড় এবং শক্তিশালী। প্রয়োজনে তারা দ্রুত এবং ভয়াবহ হামলা চালাতে প্রস্তুত।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই সময় দখলদার ইসরায়েলের সঙ্গেও ইরানের যুদ্ধ চলছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ওপর কোনো হামলা হলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী আর নিরাপদ থাকবে না।


