ভারতের ছত্তিশগড়ের বিলাসপুরে মোবাইল ফোনে কল ও মেসেজ ব্লক করে দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রেমিককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক তরুণীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে অভিযুক্ত তরুণীকে আটক করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, ব্যক্তিগত সম্পর্কজনিত বিরোধ এবং মোবাইল ফোনে যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়াই এই ঘটনার মূল কারণ।
নিহত তরুণের নাম কমতা প্রসাদ সূর্যবংশী (২৫)। তিনি ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং স্থানীয় একটি হোটেলে কাজ করতেন। পুলিশ জানায়, প্রায় ছয় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে রোশনি সূর্যবংশীর (২২) সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে জানা যায়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দুই-তিন দিন আগে থেকে তাদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। অভিযোগ রয়েছে, কমতা হঠাৎ রোশনির সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং তার ফোন নম্বর ও মেসেজ ব্লক করে দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ওই তরুণী। কমতা অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন—এমন সন্দেহ থেকে রোশনি একটি ছুরি নিয়ে তার বাসায় যান।
পুলিশ জানায়, দরজা খোলার পর রোশনি কমতার কাছে তার মোবাইল ফোন দাবি করেন। কমতা ফোন দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির মধ্যে রোশনি কমতার বুকে ছুরিকাঘাত করেন।
ঘরের ভেতরের চিৎকার শুনে কমতার রুমমেট এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পথেই তার মৃত্যু হয়।
বিলাসপুর পুলিশের কর্মকর্তা সুম্মত সাহু জানান, অভিযুক্ত তরুণীর বিরুদ্ধে হত্যার মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযুক্ত ছুরি নিয়ে ভুক্তভোগীর কক্ষে যান এবং ফোন চাইলে অস্বীকৃতির মুখে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত কমতা প্রসাদ সূর্যবংশী ক্ষমতাসীন দল বিজেপি নেতা ও জেলা পঞ্চায়েত সভাপতি রাজেশ সূর্যবংশীর ভাতিজা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত তরুণী দাবি করেন, তিনি ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে ছুরি সঙ্গে নিয়েছিলেন। তবে পুলিশ ঘটনার পূর্ণ প্রেক্ষাপট, তাদের সম্পর্কের ধরন এবং হত্যাকাণ্ডের আগে-পরে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখছে।


