সিরাজগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল

অন্বেষণ ডেস্ক : রোববার সকালে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ও ব্রাহ্মণবাড়ির সরাইলে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আকস্মিকভাবে মহাসড়ক এবং সেতুতে অবস্থান নিয়ে তারা স্লোগান দিতে শুরু করেন। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এই মিছিলের একাধিক ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে দেশজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, এমন অনাকাঙ্ক্ষিত খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর অবস্থানে যায় স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সোনতলা সেতুর ওপর সকালে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন নেতা-কর্মী জড়ো হয়েছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তারা সকলেই মাস্ক পরা অবস্থায় ছিলেন। এ সময় তারা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন।

কয়েক মিনিটের এই ঝটিকা কর্মসূচি শেষ করেই তারা খুব দ্রুত ওই এলাকা ছেড়ে চলে যান। ফলে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোক্তারুজ্জামান গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, স্থানীয়দের আলোচনা এবং ফেসবুকের ভিডিও থেকে তারা মিছিলের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। উল্লেখিত অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় দ্রুত শনাক্ত করতে এরই মধ্যে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।
অন্যদিকে, ব্রাহ্মণবাড়ির সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে স্থানীয় শাহজাদাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শেখ মো. মুন্নার নেতৃত্বে একটি ঝটিকা মিছিল বের করা হয়।
এই মিছিলে অন্তত ১৩ থেকে ১৪ জন নেতা-কর্মী অংশ নিয়েছিলেন। তারা শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে নানা স্লোগান দেন। দুপুরে ফেসবুকে এই ঘটনার ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে সরাইল থানা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
পুলিশের তাৎক্ষণিক অভিযানের ফলে ওই দিন বিকেলেই মো. বিশাল নামের ২০ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর কাদের ভূঁইয়া এই গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।
তিনি জানান, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুন্না মূলত ঢাকায় বসবাস করেন। তিনি একটি গাড়িতে করে ঢাকা থেকে এসে সকালে খুব অল্প সময়ের জন্য মিছিল করেন। এরপর দ্রুতগতিতে তিনি আবারও এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
গ্রেপ্তার হওয়া তরুণ বিশাল পূর্বে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য যে, এই ঘটনার মূল অভিযুক্ত শেখ মুন্নাকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একাধিক দল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে আওয়ামী লীগের এমন ঝটিকা মিছিলের প্রতিবাদে সরাইল উপজেলা সদরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে স্থানীয় ছাত্রদল। রোববার রাত আটটার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে তাদের এই প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়।
ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের এই বিশাল প্রতিবাদ মিছিলটি শেষ পর্যন্ত স্থানীয় থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। পুলিশ প্রশাসন বর্তমানে উভয় এলাকার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

শেরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই

শেরপুরে বিস্ফোরক মামলায় আওয়ামী লীগ কর্মী সাব্বির গ্রেপ্তার

২৩ জুন আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, ঢাকাহ ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ

বগুড়ায় বিএনপির অফিসে হামলা-ভাঙচুর, ছাত্রলীগ নেতা সাকিব গ্রেফতার

লন্ডনের কেমব্রিজ থানায় হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা

কাজিপুরে মাদক সেবনের দায়ে শেরপুরের ৫ যুবকের কারাদণ্ড

ছাত্রশিবিরের দায়িত্ব ছাড়লেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম

সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিনের মৃত্যুতে সোমবার দেশব্যাপী শোক দিবস ঘোষণা বিএনপির

একটু আস্তে কথা বলুন বললেন ডেপুটি স্পিকার
পাঠক মন্তব্য
শীঘ্রই আসছে
মন্তব্য সিস্টেম শীঘ্রই চালু করা হবে।
