সাবেক সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম মারা গেছেন

ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য দবিরুল ইসলাম মারা গেছেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও উত্তরবঙ্গের এই প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বার্ধক্যজনিত নানান জটিল রোগে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ। সম্প্রতি তার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে দ্রুত তাকে ঢাকায় আনা হয়। অবশেষে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
প্রবীণ এই নেতার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ঠাকুরগাঁও জেলাসহ দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন দবিরুল ইসলাম। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি প্রগতিশীল ধারার রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।
তার রাজনৈতিক জীবনের মূল সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মাধ্যমে। পরবর্তীতে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগদান করেন। এর ফলে উত্তরবঙ্গের প্রান্তিক রাজনীতিতে দলটির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে অত্যন্ত অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় এই নেতা দীর্ঘ সময় ধরে ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। রাজনীতিতে সততা ও নিষ্ঠার কারণে তিনি সকলের শ্রদ্ধাভাজন হয়ে উঠেছিলেন।
নির্বাচনী ইতিহাসে বিরল নজির গড়েছেন দবিরুল ইসলাম। তিনি ঠাকুরগাঁও-২ নির্বাচনী এলাকা থেকে টানা সাতবার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় এবং ১৯৯১ সালের পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সিপিবির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছিলেন।
পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন। দীর্ঘ সংসদীয় জীবনে তিনি কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন।
বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, সমাজকল্যাণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতির দায়িত্ব তিনি পালন করেছিলেন। তবে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা করা হয়।
ওই বছরের ৩ অক্টোবর রাতে পুলিশ তাকে রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার করে। দীর্ঘ কয়েক মাস কারাবন্দি থাকার পর চলতি বছরের মে মাসে আদালত তাকে জামিন দিলে তিনি অবশেষে কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন।
পারিবারিক সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে, আগামীকাল শুক্রবার বিকেল ৩টায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বড়বাড়ি ইউনিয়নের পারিবারিক কবরস্থানে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন করা হবে।
সর্বশেষ সংবাদের আপডেট পান
ইমেইল নিউজলেটার ফিচারটি শীঘ্রই চালু হবে।
শীঘ্রই আসছে
পঠিতব্য আরও খবর (আপনাদের জন্য প্রস্তাবিত)

জুলাইকে প্রশ্নবিদ্ধ করা শেখ হাসিনার অপরাধের শামিল, মন্তব্য রাশেদ খাঁনের

দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা বিএনপি কর্মীর

আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে: খুলনায় জামায়াত আমির

আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নেয়নি বরং পালিয়ে গিয়েছিল: মঈন খান

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই

শেরপুরে বিস্ফোরক মামলায় আওয়ামী লীগ কর্মী সাব্বির গ্রেপ্তার

২৩ জুন আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, ঢাকাহ ৬ জেলায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ

লন্ডনের কেমব্রিজ থানায় হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা

শেরপুরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল

গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় যুবদল নেতা আল-আমিন ছৈয়ালকে বহিষ্কার
পাঠক মন্তব্য
শীঘ্রই আসছে
মন্তব্য সিস্টেম শীঘ্রই চালু করা হবে।
