নতুন করে যারা দেশের সম্পদ লুটে নিতে চায়, তাদের হাত শক্তভাবে রোধ করতে পারলেই বাংলাদেশের উন্নয়ন দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাবে, এমন মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী এস এস হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের অগ্রগতির জন্য বড় বড় প্রকল্পের চেয়ে প্রয়োজন সৎ মানসিকতা ও স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি বলেন, দেশের টাকা যারা চুরি করেছে, তা ফেরত আনা গেলে এবং নতুন করে দুর্নীতির পথ বন্ধ করা গেলে উন্নয়ন স্বাভাবিকভাবেই গতি পাবে।
উত্তরবঙ্গের নদীগুলোর বর্তমান অবস্থার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, এই অঞ্চলের নদীগুলো আল্লাহর দেওয়া বড় নিয়ামত হলেও দীর্ঘদিন ধরে সেগুলোর যথাযথ সংরক্ষণ হয়নি। একসময় যেখানে জাহাজ চলাচল করত, সেখানে এখন সাধারণ নৌযানও চলতে পারে না। তিস্তা, ধরলা, করতোয়া ও ব্রহ্মপুত্র—সব নদীর অবস্থাই একই রকম হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নদী শুকিয়ে যাওয়ার প্রভাব কৃষি ও জনজীবনে পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নদী মারা যাওয়া মানে মাটির শক্তি হারিয়ে যাওয়া। জনগণের ভোটে সরকার গঠনের সুযোগ পেলে উত্তরবঙ্গের মরা নদীগুলোর দিকে সবার আগে দৃষ্টি দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে পুরো উত্তরাঞ্চলকে কৃষিভিত্তিক রাজধানীতে পরিণত করার লক্ষ্যও তুলে ধরেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, উত্তরবঙ্গের মানুষ পরিশ্রমী ও সহজ জীবনযাপনে অভ্যস্ত। তাদের পরিশ্রমের সঠিক সুযোগ তৈরি করে দিতে পারলেই এই অঞ্চল দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারবে। এ জন্য তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাশাপাশি সব নদীকে জীবন দেওয়ার একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বিদেশনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোনো আধিপত্যের ছায়া দেখতে চান না। বিশ্বের সব সভ্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকবে, তবে কোনো দেশকে প্রভুত্ব বিস্তারের সুযোগ দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে গত ৫৪ বছরে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, শহীদরা একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত মানুষের সামনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নীল আকাশে মাঝে মাঝে শকুনের ছায়া দেখা যায়। সেই ছায়া যেন বাংলাদেশের মাটিতে না পড়ে, সে জন্য সবাইকে সাবধান থাকতে হবে।”


